প্রকাশ: রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫, ২:৩৯ পিএম

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল বাতিল এবং পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবিতে রাজধানীর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।
রবিবার (২৯ জুন) দুপুরে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফলাফলে ব্যাপক বৈষম্য ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বিশেষ করে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও অনেক মেধাবী প্রার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
এক চাকরিপ্রত্যাশী ফাতিমা বেগম বলেন, ‘ভাইভায় সঠিক উত্তর দেওয়ার পরও আমাকে ফেল দেখানো হয়েছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
একই অভিযোগ করেন চাঁদপুরের প্রিয়াঙ্কা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাহমুদা বেগম। তারা জানান, বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে মারাত্মক তারতম্য রয়েছে। তারা প্রশ্ন করে বলেন, ‘কিছু বোর্ডে ৩০ জনের মধ্যে ২৯ জন উত্তীর্ণ হলেও অন্য বোর্ডে মাত্র ১-২ জন পাস করেছেন- এটা কেমন বিচার?’
গত ৪ জুন ১৮ তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। এতে ৬০ হাজার ৫২১ জনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়। পরবর্তীতে ২৩ জুন কারিগরি ত্রুটি সংশোধন করে আরও ১১৩ জনকে যুক্ত করে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
ফল প্রকাশের পর থেকেই চাকরিপ্রত্যাশীরা ফল বাতিল ও ভাইভা পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের সনদ প্রদানের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা কার্যালয়ে এক বৈঠকে আন্দোলনরতদের একটি প্রতিনিধি দল দাবি তুলে ধরেন। এনটিআরসিএর প্রধান উপদেষ্টার সহকারী সচিব বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন।
তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ফল পুনর্বিবেচনার কোনও সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
প্রসঙ্গত, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে প্রায় ১৯ লাখ আবেদন জমা পড়ে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৮৩ হাজার ৮৬৫ জন এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন ৮১ হাজার ২০৯ জন। চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ দেখানো হয় ৬০ হাজার ৬৩৪ জনকে। বর্তমানে এনটিআরসিএ দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্যপদের তথ্য যাচাই-বাছাই করছে। এরপর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ সুপারিশ দেওয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম