প্রকাশ: বুধবার, ২৫ জুন, ২০২৫, ৯:০০ AM আপডেট: ২৫.০৬.২০২৫ ১১:০৩ এএম

ফাইল ছবি
১১ দিনব্যাপী টানা বিমান হামলার পর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল। যদিও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, “আমাদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে,” তবে বিশ্লেষকদের মতে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আল জাজিরায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক ওরি গোল্ডবার্গ স্পষ্টভাবে বলেন, ঘোষিত দুই প্রধান লক্ষ্যেই ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েল।
ব্যর্থ দুই মূল লক্ষ্য
যুদ্ধ শুরুর সময় নেতানিয়াহু ইসরায়েলের দুটি উদ্দেশ্য ঘোষণা করেন:
১. ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করা
২. দেশটির শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্রে ক্ষতি তেমন হয়নি, কারণ ইরান আগেই কৌশলে মূল পরমাণু উপাদান সরিয়ে নেয়। অন্যদিকে, শাসনব্যবস্থার পতনের বদলে ইসরায়েলি হামলা ইরানিদের আরও ঐক্যবদ্ধ করে তুলেছে। আইআরজিসি কমান্ডারদের হত্যা করে ইসরায়েল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ জোরদার করতে চাইলেও ইরানিরা এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখে সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে।
‘প্রতীকী হামলায়’ উল্টো ফল
ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন কারাগারে বোমা হামলা করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহানুভূতি কুড়াতে চাইলেও, এতে বন্দিদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে। ইরান সরকার বহু বন্দিকে অজানা স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। একইভাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল আইআরআইবি-তে হামলার পর ইরান পাল্টা হুমকি দিয়েছে ইসরায়েলি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
আন্তর্জাতিকভাবে একা ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্র আংশিকভাবে হামলায় অংশ নিলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে শান্তিচুক্তির আগ্রহ প্রকাশ করেন। জার্মানি ও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ইসরায়েলের পাশে থাকলেও, তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার মতো কঠোর শর্ত কোনো দেশই সমর্থন করেনি।
আরও পড়ুন
ফলে বিশ্ব আবার ফিরে গেছে সেই পুরনো পরমাণু সমঝোতায়—যেটাতে ইরান আগে থেকেই রাজি ছিল। এতে ইসরায়েল নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থানেও পিছিয়ে পড়ে।
প্রতিরক্ষা সংকটে ইসরায়েল
যুদ্ধের শুরুতে আকাশে আধিপত্য দেখালেও, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফাঁক গলে হামলা চালাতে সক্ষম হয়। 'আয়রন ডোম' বহুবার ব্যর্থ হয়, ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে। এতে ইসরায়েলের অস্ত্র মজুদেও সংকট দেখা দেয়।
ইরানের অবস্থান শক্তিশালী
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান কূটনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে। বিশ্বব্যাপী দেশটিকে ‘আক্রমণের শিকার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান আগেভাগে সতর্কবার্তা দেয়, যা যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আন্তর্জাতিকভাবে তাদের ভাবমূর্তি ইতিবাচক রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ শেষে ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে তারা চায়। অপরদিকে, ইসরায়েল সামরিক, কূটনৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক—তিন দিক থেকেই চাপে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই বলছেন, যুদ্ধ থামালেও রাজনৈতিকভাবে ইসরায়েল পরাজিতই হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা