প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫, ১০:৪৫ AM

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের নারী নেত্রীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কুরুচিপূর্ণ ও যৌন হয়রানিমূলক প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত এ তথ্য জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিওকল ফাঁসের ঘটনায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীনকে জড়িয়ে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং পতিত ফ্যাসিবাদী দলের নেতাকর্মীরা চরম কুরুচিপূর্ণ, যৌন হয়রানিমূলক ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; ইতিপূর্বে নানা সময় এনসিপির নারী নেত্রীদের লক্ষ্য করে একই ধরণের অবমাননাকর প্রচারণা চালানো হয়েছে। এই ধরণের কুরুচিপূর্ণ প্রচার ও প্রোপাগান্ডা কেবল নারীর প্রতি অবমাননা ও নিপীড়নের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি তাদের রাজনৈতিক কর্তাসত্তা ও সক্ষমতাকে অস্বীকার করা এবং রাজনৈতিক পরিসরকে সংকুচিত করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
‘দীর্ঘ দেড় যুগের গুম-খুন-ধর্ষণ ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের পর জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে নারীরা নিজেদের কর্তাসত্তাকে পুনরুদ্ধার করেছেন। সুতরাং, তাদের প্রতি যেকোনো ধরণের অবমাননাকর ও নিবর্তনমূলক আচরণ জুলাই অভ্যুত্থানের মৌলিক আকাঙ্ক্ষা ও আদর্শকে অস্বীকার করে। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি- এমনকি ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর কিছু নেতাকর্মীরাও এই যৌন হয়রানিমূলক প্রচারণায় প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এনসিপি রাজনৈতিক পরিসরে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে এনসিপির নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে অধিক হারে নারীদের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সমর্থকগণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, ‘এই ধরণের যৌন হয়রানিমূলক প্রচারণা অব্যাহত থাকলে এনসিপি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং অনলাইন ও অফলাইনে সকল নারী নির্যাতনকারী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম