
প্রতীকী ছবি
বিশ্বব্যাপী জন্মহারে নজিরবিহীন হ্রাস নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, আর্থিক সংকট, সময়ের অভাব, স্বাস্থ্যগত সমস্যাসহ নানা কারণে মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক সন্তান নিতে পারছেন না। বিষয়টিকে একটি বৈশ্বিক সংকট হিসেবেও চিহ্নিত করেছে ইউএনএফপিএ।
ভারতের মুম্বাইয়ের বাসিন্দা নম্রতা নাংগিয়া ও তার স্বামীর গল্প এ সংকটের একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি। পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও দ্বিতীয় সন্তানের খরচ বহনের চিন্তায় বারবার পিছিয়ে যাচ্ছেন এই দম্পতি। স্কুল ফি, পরিবহন, চিকিৎসা ও অতিরিক্ত কার্যক্রমের খরচ মিলিয়ে এক সন্তানের দায়ই যথেষ্ট ভারী বলে মনে করছেন তারা।
নম্রতা বলেন, আমাদের ছোটবেলায় অতিরিক্ত কোনো কার্যক্রম ছিল না। এখন একটি শিশুকে শুধু স্কুলে পাঠালেই হয় না, সাঁতার শেখা, আঁকা শেখা, নানা দিকেই খেয়াল রাখতে হয়।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ইতালি, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৪টি দেশে পরিচালিত এক জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশ জানিয়েছেন, তারা কাঙ্ক্ষিত সন্তানসংখ্যা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। জরিপে দেখা গেছে, ৩৯ শতাংশ মানুষ অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে সন্তান নিতে পারেননি। গর্ভধারণে সমস্যা ছিল মাত্র ১২ শতাংশের।
ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ড. নাটালিয়া কানেম বলেন, “বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ দুই বা ততোধিক সন্তান চায়, কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না। এটাই হলো আসল সংকট।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে একদিকে অতিরিক্ত জনসংখ্যা নিয়ে যেমন উদ্বেগ রয়েছে, অন্যদিকে জনসংখ্যা হ্রাস নিয়েও নতুন করে চিন্তা দেখা দিয়েছে। তবে এ নিয়ে অতিরঞ্জিত বা প্ররোচনামূলক নীতির আশঙ্কা রয়েছে।”
এ পরিস্থিতিতে অনেকে সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকছেন মূলত সময়ের অভাবে। মুম্বাইয়ের নম্রতার ভাষায়, প্রতিদিন অফিসে যাওয়া-আসায় তিন ঘণ্টা চলে যায়। বাড়ি ফিরে ক্লান্ত থাকলেও মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম বা বিশ্রামের সুযোগ পাই না। একেকটা কর্মদিবসের শেষে একজন মা হিসেবে অপরাধবোধে ভুগি।
জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে ৩১ শতাংশ বলেছেন, তারা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক সন্তান নিতে পারেননি।
এ বিষয়ে জনসংখ্যা বিশ্লেষক ও ফিনল্যান্ড সরকারের উপদেষ্টা আনা রোটকির্চ বলেন, অধিকাংশ দেশেই দেখা যায়, মানুষ যত সন্তান চায়, বাস্তবে তার চেয়ে কমই নিচ্ছে।
অধ্যাপক স্টুয়ার্ট গাইটেল-বাস্টেন সতর্ক করে বলেন, কম জন্মহারকে ব্যবহার করে অনেক দেশে অভিবাসন-বিরোধী বা জাতীয়তাবাদী নীতি গ্রহণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এটি হতে দেওয়া যাবে না।
জাতিসংঘের এ জরিপ এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে এটি ৫০টি দেশে আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর