
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আরও ৪৪০ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত উপত্যকায় প্রতিদিনই প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে, পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
ইতিমধ্যে, গাজার জনগণকে মার্কিন সহায়তায় পরিচালিত বিতর্কিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (GHF)’-এর ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে না যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সংস্থাটি জানিয়েছে, এক দিনের জন্য তাদের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে "সংস্কার, পুনর্গঠন ও দক্ষতা বৃদ্ধির" কাজের কারণে।
গাজার এই পরিস্থিতির মধ্যে উঠে এসেছে আরও এক বিতর্কিত খবর। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেতজ জানিয়েছে, এক সেনা কর্মকর্তা যিনি গত বছর গাজায় সাদা পতাকা বহনকারী দুই ফিলিস্তিনির ওপর গুলি চালাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাকে এখন ব্যাটালিয়নের কমান্ডার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই সময় অন্য এক অফিসারের হস্তক্ষেপে গুলি চালানো ঠেকানো যায়, তবুও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলবিরোধী পদক্ষেপের দাবি জোরালো
নরওয়ের পার্লামেন্ট আজ ভোট দিতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্বভৌম তহবিল (১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার) থেকে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কার্যক্রম চালানো ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ প্রত্যাহারের বিষয়ে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেবল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে জড়িত কোম্পানি থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বিরোধী দলগুলোর মতে, এটি যথেষ্ট নয়।
নরওয়ের পার্লামেন্টে বিরোধী এক সাংসদ বলেন, “নরওয়ের তহবিল ছাড়া ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া আরও কঠিন হতো।”
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে আজ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘রেড লাইন’ কর্মসূচির আওতায় একটি ব্যতিক্রমী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৮ হাজার মানুষ পার্লামেন্ট ঘিরে মানববন্ধন গড়ে তুলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পূর্ণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধের দাবি জানায়।
বিক্ষোভের সময় পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিচ্ছিলেন ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা কেয়ার স্টারমার। আন্দোলনকারীরা বলেন, “গাজার শিশুদের অনাহারে মরতে দেওয়া যদি ব্রিটেনের কাছে রেড লাইন না হয়, তাহলে কী রেড লাইন?”
বৃটিশ জনমতেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের সমর্থন
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইসরায়েলের ওপর পূর্ণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন। পাশাপাশি, চরমপন্থি ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা। এমনকি জাতিসংঘ থেকে ইসরায়েলকে বহিষ্কারের পক্ষেও ৫৩ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক মত দিয়েছেন।
কারাগারে ১০,৪০০ ফিলিস্তিনি, তৃতীয়াংশ বিনা অভিযোগে আটক
ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ইসরায়েলের কারাগারে বর্তমানে কমপক্ষে ১০,৪০০ ফিলিস্তিনি আটক রয়েছেন। এদের মধ্যে ৪৪০ জন শিশু এবং ৪৯ জন নারী।
এছাড়াও, বন্দিদের এক-তৃতীয়াংশই কোনো অভিযোগ ছাড়াই ‘প্রশাসনিক আটক’ আইনের আওতায় আটক রয়েছেন, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
প্রসঙ্গত, ইসরায়েলের গাজায় সামরিক অভিযান এবং দখলদারিত্ব আন্তর্জাতিক মহলে চরম সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউয়াভ গালান্তের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ