প্রকাশ: শনিবার, ৩১ মে, ২০২৫, ৮:১২ পিএম আপডেট: ৩১.০৫.২০২৫ ৮:১৭ PM

সাতক্ষীরায় এবার চাহিদার চেয়ে পশুর সংখ্যা বেশি
কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় জমে উঠেছে সাতক্ষীরার পশুর খামারগুলো। ভোর থেকে রাত অবধি গরুর গোসল, খাবার তৈরি ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। তবে এবার চাহিদার চেয়ে পশুর সংখ্যা বেশি থাকায় প্রত্যাশিত লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক খামারি।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদুল আজহায় সাতক্ষীরায় কোরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ৮৫ হাজার ৩১৮টি। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৬০৬টি পশু। এরমধ্যে রয়েছে ৪৯ হাজার ১৯৯টি গরু, ১ হাজার ১৮২টি মহিষ, ৪৪ হাজার ৫৪টি ছাগল, ৬ হাজার ১৫৬টি ভেড়া এবং অন্যান্য ১০টি পশু। তাই দাম নিয়ে লোকসানের ভয়ে আছেন খামারিরা। তবে তারা আশা করছেন, যদি বাজারে ভারতীয় গরু না আসে, তাহলে লোকসানের আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমবে।
এদিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেকে দাম বেশি বললেও কেউ কেউ বলছেন গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। তবে এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে পশুর দাম কিছুটা সহনীয় থাকবে।
মাছখোলা গ্রামের খামারি আব্দুল আজিজ বলেন, “মাত্র ছয় মাস আগে খামার শুরু করেছি। এখন আমার খামারে ১০টি গরু রয়েছে। নিজ বাড়িতে লাগানো ঘাস খাইয়ে ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পালন করছি। যদি ভারত থেকে গরু না আসে, তাহলে আমরা প্রান্তিক খামারিরাও ভালো লাভ করতে পারবো।”
তিন বছর ধরে গরু পালন করছেন খামারি হাফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এবার খাবারের দাম অনেক বেশি, কিন্তু বাজারে গরুর দাম কম। লাখ টাকার উপরে গরু বিক্রি হচ্ছে না। লোকসানের শঙ্কা রয়েছে। তবে বড় গরুগুলো বিক্রি হলে হয়তো কিছু লাভ হতে পারে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ডা. বিষ্ণুপদ বিশ্বাস বলেন, “চাহিদার তুলনায় এবার প্রায় ১৫ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে আতঙ্কের কিছু নেই। ভারতীয় গরু যাতে না আসে, সেজন্য সরকার কড়া অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”
তিনি আরো জানান, জেলার ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পশুর সংখ্যা বেড়েছে ২ থেকে ৩ শতাংশ। তার মতে, চোরাই পথে সীমিতসংখ্যক গরু এলেও তাতে প্রান্তিক খামারিদের তেমন প্রভাব পড়বে না।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস