প্রকাশ: শনিবার, ৩ মে, ২০২৫, ৬:২২ পিএম

আধুনিক সময়ে শরীরচর্চা ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের অন্যতম সহায়ক যন্ত্রাংশ হলো জিমনেসিয়াম। অন্যদিকে দেশের একমাত্র আবাসিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যচর্চার প্রধান অবলম্বন জিমনেসিয়াম দীর্ঘ অব্যবস্থাপনা আর অযত্নে। মেঝেতে জমে থাকা পানি, মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি আর পর্যাপ্ত উপকরণের অভাবে কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এ জিমনেসিয়াম।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ব্যায়ামাগারটি আজ পড়ে আছে চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার ছাপ নিয়ে। যন্ত্রপাতির বেশিরভাগই অকেজো, কিছুতে মরিচা ধরেছে, বৃষ্টি এলে মেঝেতে জমে বৃষ্টির পানি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জিমনেসিয়ামের মেঝে জুড়ে ধুলোর আস্তরণ। ছাদে অসংখ্য ফাটল, যেখান দিয়ে বর্ষাকালে পানি পড়ে। ফলে মেঝের একাংশে জমে থাকে পানি
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জুনায়েদ বলেন, ‘শিক্ষা গ্রহনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া জরুরী। জিমনেশিয়াম শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই আমাদের ক্যাম্পাসের জিমনেসিয়ামের আধুনিকায়ন প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব জিমনেশিয়াম তৈরী করা।’
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জিমনেসিয়ামের ইনস্ট্রাক্টর প্রায়ই আসেন না। আমরা কেউ কোনো গাইডলাইন ছাড়াই নিজেদের মতো করে শরীরচর্চা করি। ইনস্ট্রাক্টরের অনুপস্থিতির কারণে সঠিক ব্যায়াম না করে কেউ কেউ নিজেদের ক্ষতি করছেন বলেও জানান একাধিক শিক্ষার্থী।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত জিমনেসিয়ামের কোনো বড় সংস্কার হয়নি। তবে সম্প্রতি সময়ে কিছু যন্ত্রপাতি কেনার হয়েছে এবং ছাত্রীদের জন্য আলাদা রুমের সুবিধা চালু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপ পরিচালক মো. আজমল আমীন বলেন, ‘আগের থেকে আমরা কিছুটা আপডেট করার চেষ্টা করেছি তবে প্রয়োজনের তুলনায় এগুলো পর্যাপ্ত নয়। যেসব যন্ত্রপাতির সংকট আছে, সেগুলো নতুন কেনার চেষ্টা করবো তবে প্রশাসন থেকে আমরা বড় আকারে বাজেট পাচ্ছি না নতুন কমপ্লেক্স ভবন হওয়ায় এরা গুরুত্ব পাচ্ছে না। আর মেয়েদের শরীরচর্চার জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম