
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার আয়োজিত এক মহাসমাবেশে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিলসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
সমাবেশে তিনি বলেন, ‘দেশে ইসলামবিরোধী গোষ্ঠী আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন কোরআন-সুন্নাহর বিরুদ্ধে। আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করছি- এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না, যা ইসলামী শরিয়তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
তিনি আরও দাবি করেন, বিদেশি চক্রান্তে মদদপুষ্ট কিছু ‘নারীবাদী গোষ্ঠী’ সমাজের ধর্মীয় ও পারিবারিক কাঠামো ধ্বংসের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদি বিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে তিনি তাদের মাগফিরাত কামনা করেন।
হেফাজত আমির বলেন, ‘আমরা গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে বিজয় পেয়েছি। এটি আমাদের জন্য নতুন এক স্বাধীনতার সূচনা। এখন দরকার এই বিজয়কে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া।’
দেশের বর্তমান সংকট ও বিদেশি আগ্রাসনের শঙ্কার কথা তুলে ধরে বাবুনগরী বলেন, ‘ভারতের ষড়যন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হস্তক্ষেপ আমাদের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
নারীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে কথা বলেন হেফাজত আমির। পাশাপাশি তিনি যৌতুকপ্রথা রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এছাড়াও তিনি দাবি করেন, ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধারা বাতিলের সুপারিশ করেছে, যা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। আমরা স্পষ্ট জানাতে চাই- ধর্ম অবমাননার শাস্তি সংশ্লিষ্ট আইনগুলো বহাল থাকতে হবে।’
সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। তবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।’
আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে। এসব অপশক্তির বিচার একদিন হবেই। আমরা এই দেশকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে চাই।’
এ সময় হেফাজতসহ বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং সরকারের কাছে চার দফা দাবির দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম