প্রকাশ: রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:২৮ পিএম

জন্মনিবন্ধন সনদ না পাওয়া পর্যন্ত যেকোনো শিশুর পরিচয়ের দালিলিক প্রমাণ হলো ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) টিকাকেন্দ্র থেকে পাওয়া ছোট আকারের হলুদ কার্ড। প্রত্যেক শিশুর জন্মনিবন্ধনের জন্য এই কার্ড অপরিহার্য।
কিন্তু ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্রায় ৩মাস ধরে পাওয়া যাচ্ছে না এই কার্ড। এই সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশু এই কার্ড পায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এই হলুদ কার্ড সরবরাহ বন্ধ থাকায় সৃষ্টি হয়েছে সংকটের। এ নিয়ে নবজাতকদের অভিভাবক ও ইপিআই টিকাদানকর্মীদের মধ্যে প্রায়ই ঘটছে কথা-কাটাকাটির ঘটনা। অনেকেই কাজ চালাচ্ছেন এই কার্ডের ফটোকপি করে।
টিকাদানে যুক্ত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গিয়েছে, কার্ডের সংকটের কারণে টিকাদানকেন্দ্রগুলোতে সাদা কাগজের স্লিপে লিখে টিকা প্রয়োগ করা হচ্ছে। ফলে সাদা কাগজেই লিখে দেওয়া হচ্ছে পরবর্তী টিকাদানের তারিখ। কার্ড না পাওয়া পর্যন্ত সাদা স্লিপটি না হারানোর
নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে অভিভাবকদের।
অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, জন্মনিবন্ধন করতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তারা। তাই তারা ইপিআই কেন্দ্র থেকে শিশুদের টিকা দেওয়ার কার্ডটি দ্রুত সংগ্রহ ও বিতরণের দাবি জানান।
পৌর এলাকার বাসিন্দা মোহন জানান, তার শিশুর বয়স তিন মাস। ইপিআই টিকাদানের পর যে কার্ড দেওয়া হয় হাসপাতালে তা নেই। তাই করাতে পারেননি সন্তানের জন্মনিবন্ধনও।
একই এলাকার রবিউল ইসলাম জানান, তার শিশুর প্রথম টিকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কার্ড পাননি এখনো। হাতে দেওয়া হয়েছে সাদা কাগজের একটি স্লিপ। কিন্তু জন্মনিবন্ধনের জন্য চাওয়া হচ্ছে শিশুর ইপিআই টিকা কার্ড।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, টিকাদানের পর যে কার্ড দেওয়া হয় তা হাসপাতালে সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তিতে পোহাচ্ছে সাধারণ জনগনের। তারা পরিষদে জন্মনিবন্ধন করতে এসে ফিরে যাচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাশেদ আল মামুন বলেন, শৈলকুপায় ইপিআই টিকাদানের কার্ড ফুরিয়ে গিয়েছে। এজন্য মাঠ কর্মীরা চাইলেও তা দিতে পারছেন না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে জানানো হয়েছে। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি