বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
মাত্র ৩০০ মিটার খননেই ফিরতে পারে মেঘনার হারানো সবুজ
মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:৩৬ পিএম

একটা সময় ছিল, যখন খাল মানেই ছিল প্রাণের প্রবাহ। পানির স্রোতের সাথে বয়ে যেত কৃষকের স্বস্তি, জমির উর্বরতা আর গ্রামীণ জীবনের সহজ সরল সব গল্প। কিন্তু সেই চিরচেনা চিত্র এখন কেবলই স্মৃতি। জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টি, অপরিকল্পিত ভূমির ব্যবহার আর প্রশাসনিক উদাসীনতায় দেশের বহু খাল আজ  মৃতপ্রায়। 

অথচ খুব স্বল্প উদ্যোগেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব সেই প্রাণ। তেমনই একটি বাস্তব চিত্র দেখা যাচ্ছে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামে।

বিনোদপুর গ্রামের পাশ দিয়ে করিমাবাদ-হিজলতলী-দক্ষিণকান্দি হয়ে সেননগর বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল একটি প্রাকৃতিক খাল। কাঠালিয়া নদীর শাখা থেকে প্রবাহিত এই খাল এক সময় কৃষি জমিতে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করতো। বর্ষার পানি ধরে রাখার পাশাপাশি শুকনো মৌসুমে নদী থেকে ধীরে ধীরে পানি সরবরাহ করে কৃষিকে রাখত সজীব। খালটির ওপর নির্ভরশীল ছিল দক্ষিণকান্দি ও দড়িকান্দি গ্রামের মধ্যবর্তী ঐতিহ্যবাহী বিলটি। শুধু সেচ নয়, খালটি ছিল প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদেরও আশ্রয়স্থল।

কিন্তু বছরের পর বছর খনন না হওয়ায় খালটি এখন পলিতে ভরাট হয়ে প্রায় বিলুপ্ত। বর্ষায় জলাবদ্ধতা আর শুকনো মৌসুমে পানি শূন্যতা এখন এলাকার কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকেই পাম্প দিয়ে সেচ দেওয়ার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ কৃষকের পক্ষে সম্ভব হয় না সেই ব্যয় বহন করা। ফলে কৃষি থেকে লাভ তো দূরের কথা, উঠে আসে না মূলধনই।

স্থানীয় কৃষক বাচ্চু মিয়াসহ একাধিক কৃষক নিজেরা খালটি পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, মাত্র ৩০০ মিটার পুনঃখনন করলেই পানি প্রবাহ পুনরায় সচল হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর ফলে শুধুমাত্র সেচ সুবিধাই নয়, বরং প্রতি বছর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণও বাড়বে। সেইসাথে ফিরবে দেশীয় মাছ, সৃষ্টি হবে একটি প্রাকৃতিক জলাধার যা জলাবদ্ধতা রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মেঘনা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহে আলম এ বিষয়ে জানান, খাল খননের ফলে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবে, যার মাধ্যমে চাষাবাদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিকভাবে কৃষি কার্যক্রমে গতি আসবে।

স্থানীয় কৃষকদের এই বাস্তব সমস্যাটিকে  অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে মন্তব্যে করেন মেঘনা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হ্যাপী।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে এলাকা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলবেন এবং মাঠপর্যায়ে কৃষিকাজে পানির ঘাটতি নিয়ে বাস্তব চিত্র তুলে ধরবেন। যদি প্রাপ্ত তথ্যে খাল পুনঃখননের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত হয়, তবে দ্রুতই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এই ধরনের বাস্তব ও প্রয়োগযোগ্য উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় কোনো প্রকল্প বা অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন নেই। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যৌথভাবে একটি ক্ষুদ্র প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে উপকৃত হবেন শত শত কৃষক পরিবার, প্রাণ ফিরে পাবে একটি জনপদ।

স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close