
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বা এর আগেই নির্বাচন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাম দলের নেতারা। তারা বলছেন, সংস্কারের নামে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্ব করা সঠিক হবে না। এতে সুযোগ নিবে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা।
রবিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত একটি হোটেলে বিএনপির সাথে অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তারা। তারা জানায়, সংস্কার ও নির্বাচনকে প্রতিপক্ষ ভাবার সুযোগ নেই। এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো দ্রুত শেষ করে নির্বাচনের আয়োজন করা দরকার।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি শাহ আলম বলেন, ১৫ বছরের ক্ষোভ মানুষ ৫ আগস্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে মানুষের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল ভোট। ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। মানুষ চায় গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, রাজনীতিতে আমরা একটা নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। গণতান্ত্রিক ধারায় কিভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায় সেই কাজটি করা দরকার।
তিনি আরো বলেন, আমরা জোটগতভাবে অনেক আগে থেকেই বলে এসেছি বাংলাদেশে জরুরিভাবে একটি নির্বাচিত সরকার দরকার। কারণ অনির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত হলে, সংকট আরো ঘনীভূত হবে। আমরা আরো বলে আসছি ডিসেম্বরই কেন? ডিসেম্বরের অনেক আগেই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য অবাধ নির্বাচনের জন্য যেসব সংস্কার দরকার তা করে নির্বাচন করা সম্ভব। আমাদের গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে যাওয়াটা দরকার।
কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যারা নির্বাচনের পরে সংস্কার করতে চায়, তারাই হচ্ছে আসল সংস্কারের পক্ষে। আর যারা নির্বাচন না করে সংস্কার করতে চায়, একটা অধ্যাদেশ জারি করার মাধ্যমে, সেটি বালুতে গাথুনির মতো। শক্ত ভিত্তির উপর সংস্কার করতে হলে জনগণের অংশগ্রহণ লাগবে। আর সেজন্য একটি নির্বাচন অপরিহার্য। তবে নির্বাচনের নামে কোনো প্রহসন আমরা করবো না। নির্বাচনের আগে যতটুকু সংস্কার দরকার তা অবশ্যই করতে হবে।
এছাড়াও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, রবিবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে বিএনপির নেতৃবৃন্দের একটি অনানুষ্ঠানিক সভা হয়েছে। যেখানে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তারা কিভাবে দেখছেন, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটি সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু। তবে সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা বলেননি তারা।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি