প্রকাশ: শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:৪৪ পিএম আপডেট: ১২.০৪.২০২৫ ৮:৪৭ PM

সম্ভবত বাংলাদেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতার ইতিহাসে, মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে, এই প্রথম হাটহাজারী থেকে দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) পাস, আরবী ভাষা ও সাহিত্য এবং ইসলামী শরীয়াহ-এ উচ্চতর ডিগ্রীধারী (ইফতা), কওমী লেবাসপরিহিত কাউকে এ ধরণের একটি ইভেন্টে পুরোদস্তুর লাইভ রিপোর্টিংয়ে দেখা গেলো। ২৮ বছর বয়সী এই মুফতী ইসলামিক সর্বোচ্চ ডিগ্রীর পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী ভাষায় স্নাতকও সম্পন্ন করেছেন!
মুফতী আব্দুল্লাহ তামীম সময়ের সাথে দীর্ঘদিন ধরেই আছেন। গত বছর হজ্জের সময়ও তিনি সময়ের হয়ে মক্কা-মদীনায় রিপোর্টিং করেছেন। 'সময় ইসলামিক' নামে ইউটিউব চ্যানেলের জন্য তিনি নিয়মিত ইসলামিক কন্টেন্ট বানান। তবে তামীম আজ যা করেছেন, সেটা ইতিহাস। সময় টিভি তাকে মূলধারার রিপোর্টিংয়ে যুক্ত করে আজ যা করলো, সেটাও ইতিহাস।
এদেশের সবচেয়ে অবহেলিত শিক্ষিত জনগোষ্ঠী হলো কওমী আলেমরা। অথচ যে পরিমান বই তাদের পড়তে হয়, সেটা সম্পর্কে সাধারণদের কোনো ধারণাই নাই! এর বাইরে বাংলা সাহিত্য পাঠ, ক্যালিওগ্রাফি, লেখালেখি, উপস্থিত কিংবা নির্ধারিত বিষয়ে বক্তৃতা, গ্রাফিক ডিজাইন, এমনকি ফ্রিল্যান্সিংয়েও তাদের বড় অংশ অভূতপূর্ব অগ্রগামী। অথচ হাসিনাশাহী এই আলেমদের বিরুদ্ধে পুরো সমাজে ঘৃণার চাষ করেছিলো। আজ সেই ঘৃণা উপরে ফেললো এদেশের মানুষ। সুযোগের অভাবে এদেশের হাজারো কওমী ফারেগ তামীম গণমাধ্যমের চৌকাঠ মাড়ানোরও সুযোগ পায় না। অথচ সব জায়গায় যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগ পেলে, তামীমরাও সেরা কাজ করতে পারে।
সময়ও দেখিয়ে দিলো সবসময়ই তারা কেনো সেরা চিন্তা করে। অভিনন্দন টিম সময়, অভিনন্দন তামীম। বৈষম্যহীনতা শুধু কাগুজে না হোক, এভাবেই বৈষম্যহীনতা ছড়িয়ে পড়ুক পুরো সমাজে, সবক্ষেত্রে, সব পেশায়। কারো পোশাক বা অবয়ব যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের জন্য বাধা না হোক।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, সময় টিভি।
(লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর