প্রকাশ: শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:৩৮ পিএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে বিষ দিয়ে অবাধে মাছ শিকারের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। প্রতিনিয়ত এই কাজ করছে একদল অসাধু জেলে চক্র। এতে করে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার বাঁধাগ্রস্তসহ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, রাতে উজানে ছোট ছোট নৌকায় করে পদ্মা নদীতে যায় ওই অসাধু চক্র। পরে নদীতে বাঁশের খুঁটি গেড়ে তাতে ছোট্র একটি পলিথিনে করে বিষ বেঁধে দেয় তারা। বিষ প্রয়োগ করার কিছুক্ষণ পরেই মাছ মরে ভেসে উঠে উপরে। তখন ভেসে উঠা মরা মাছ গুলো জাল দিয়ে নৌকায় উঠায়। এক ঘণ্টার মধ্যে নদীর কয়েক জায়গা বিষ প্রয়োগ করে এভাবে বিপুল মাছ শিকার করে তারা। সেই মাছগুলো ভোররাতে দৌলতদিয়া বাজার সহ এলাকার বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এভাবে বিষ দিয়ে মাছ মারলে নদীতে কোন মাছ থাকবে না। যার কারণে দেশে মাছের অভাব দেখা দিতে পারে এবং বিষ মিশ্র মাছ খেয়ে মানুষকে অসুস্থ হতে পারে। প্রশানের উচিত যারা এই কাজ করছে তাদেরকে ধরে আইনের আওতায় আনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ‘রাতে হলেই নদীতে বিষ দিয়ে মাছ ধরার মহোৎসব চলে। লঞ্চঘাট থেকে শুরু করে ৭ নং ফেরিঘাটের অদূরে নদীতে চলে বিষ দিয়ে মাছ শিকার। রাত থাকতেই সেই মাছগুলো এলাকার বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রি করে একটি চক্র। এটা দেখার কেউ নেই।’
মিলন সরদার নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘পদ্মা নদীতে রাতের বেলায় বিষ প্রয়োগ করে একটি চক্র বড় বড় বোয়াল রুই কাতল শৈল গজার বাইন সহ বিভিন্ন মাছ সংগ্রহ করছে। এছাড়াও নানার জাতের প্রচুর ও ছোট ছোট মরা মাছ ভেসে আসে। তবে সেগুলো কেউ নেয় না। কারণ বিষ প্রয়োগ করায় মাছগুলো ততক্ষণে পচে গেছে। নদীতে প্রতিটি মাছের পেটে এখন ডিম। সেই সাথে নদীতে থাকা সাপ ব্যাঙসহ সকল জলজ প্রাণীকে হত্যা করছে তারা। নদীতে বিষ দিয়ে যারা মাছ শিকার করছে তারা দেশের শত্রু।’
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন পাইলট বলেন, ‘আমরা খুব তাড়াতাড়ি নদীতে অভিযান চালাবো। নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করা আইনগত অপরাধ। নদীতে বিষ প্রয়োগ করার কারণে নদীতে থাকা সকল জলজ প্রাণী মারা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করলে দেশের আইনে অপরাধিকে দুই বছর জেলসহ ৫ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে এবং উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে পারে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম