প্রকাশ: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ১:৪৮ AM

বাংলাদেশে নন-পারফর্মিং লোন (NPL) পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং খাতে NPL-এর হার প্রায় ৩০% ছুঁয়েছে। এটি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর সতর্কতার সংকেত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সংকট মোকাবিলায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। BRPD 16 সার্কুলার (১৮ জুলাই ২০২২) ও পরবর্তী আপডেটগুলোর মাধ্যমে ঋণ পুনঃনির্ধারণ প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। পূর্বের তুলনায় ডাউন-পেমেন্ট শর্ত শিথিল করা হয়েছে, যাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে যেতে পারে। তবে, এরই মধ্যে NPL-এর অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ঋণ পুনঃনির্ধারণের মাধ্যমে NPL কমানো না গেলে, ব্যাংকগুলোর প্রোভিশন (provision) স্বল্পতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)ও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষত $৫.৫ বিলিয়ন ঋণ প্রাপ্তির পরবর্তী কিস্তি (প্রাথমিক $৪.৭ বিলিয়ন) মুক্তির প্রেক্ষাপটে।
বর্তমানে নীতি হার (policy rate) অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের জন্য সুদের বোঝা কিছুটা কমলেও, মূল্যস্ফীতি হ্রাসের আশানুরূপ ফলাফল এখনও লক্ষণীয় নয়। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর advance-to-deposit (AD) অনুপাত বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে নীতি সমর্থন (policy support) দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশের ঋণ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে ১০–১২ বছরের মেয়াদে, যার মধ্যে ১–২ বছরের গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত। তবে এত সহায়তা থাকা সত্ত্বেও ঋণ সময়মতো পরিশোধ হবে কি না, তা এখনও উদ্বেগের বিষয়। অনেক কোম্পানি OPEX অর্থ CAPEX-এ ব্যয় করেছে, যার ফলে নগদ অর্থ পরিচালনায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং ঋণ পরিশোধ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা দেখা দিয়েছে।
নীতি সমর্থনভিত্তিক পুনঃনির্ধারণ বা পুনর্গঠন প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সতর্ক তদারকির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। শিল্প তদারক বা ইনভিজিলেটর নিয়োগ করা উচিত। অন্যথায়, পুনঃনির্ধারিত ঋণ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দিতে পারবে না এবং আবারও খারাপ ঋণের ঝুঁকি তৈরি হবে। একাধিকবার (২–৪ চক্র) পুনঃনির্ধারণ করা যৌক্তিক নয়।
যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যেই শিল্পকে সহায়তার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে, তাই NPL বৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমিত। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কঠোর তদারকি ছাড়া ব্যাংকিং খাতকে নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়।
লেখক: ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ