প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:২৭ পিএম

উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে বন্ধু ও বান্ধবীর সঙ্গে সময় কাটানোর পর টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। সেখানে চিৎকার-চেঁচামেচির একপর্যায়ে কয়েকজনের ধাওয়ার মুখে তিনি তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন বলে দাবি করেছেন তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। পরদিন নদ থেকে উদ্ধার করা হয় তাহসিফের মরদেহ। বার থেকে বস্তি, সেখান থেকে নদে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ এখন তদন্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কেন তারা গভীর রাতে ওই বস্তিতে গিয়েছিলেন, কারা তাদের ধাওয়া করেছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তাহসিফ নদে পড়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ, দীপ ও জেরিকা তাসনিম দিশা উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাদের বের হতে দেখা যায়। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ওই রাতে তাহসিফ ১৬ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত চারটি ‘আল্ট্রা স্ট্রং’ বিয়ার পান করেছিলেন। দিশার সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে বারে কী নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল, তা নিশ্চিত নয়। রেস্টুরেন্টের জেনারেল ম্যানেজার হাসান হাবিব জানান, এর আগের তিন দিন তাহসিফ একই তরুণীকে নিয়ে সেখানে এসেছিলেন।
বার থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফ ও দীপ মোটরসাইকেলে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় যান। সিসিটিভি ফুটেজে ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৫২ মিনিটে তাদের ওই এলাকায় প্রবেশের বিষয়টি দেখা গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেখানে কয়েকজনের সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচির পর তাদের ধাওয়া করা হয়। দীপের ভাষ্য, ধাওয়ার মুখে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন এবং তিনি একটি পিলারের পাশে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তাহসিফের সঙ্গে সেখানে আসার কথা জানান তিনি। তবে দীপের বক্তব্যে কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে বলে নৌ পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। এ কারণে তার বক্তব্য সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাহসিফের সঙ্গে বারে যাওয়া দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বারে যাওয়ার আগে ও পরে তাহসিফের সঙ্গে তার কী কথা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে রক্ত, পাকস্থলী, কিডনি ও ভিসেরার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তাহসিফের শেষ রাতের ঘটনাপ্রবাহ জানার চেষ্টা করছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি