প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৩ পিএম

রাজধানীর নারিন্দায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মশুরীখোলা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা সুফি শাহ মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ (রহ.)-এর ১০১তম পবিত্র উরস শরিফ আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে। ‘হযরত কেবলা’ নামে পরিচিত এই সুফিসাধক ইসলাম প্রচার, ধর্মীয় শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক সাধনায় জীবন অতিবাহিত করেন। তাঁর স্মৃতিকে ঘিরে প্রতিবছর দরবার শরিফে উরস পালিত হয়।
দরবার শরিফের প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, হযরত শাহ আহসান উল্লাহ (রহ.) ১৭৯৮ সালে ঢাকা জেলার আড়াইহাজার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শাহ নূর মোহাম্মদ। তাঁকে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর বংশধর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শৈশবে আরবি ও ফারসি ভাষার পাশাপাশি হাদিস ও তাফসির শিক্ষা লাভ করেন। পরে পবিত্র হজ পালনের জন্য মক্কা মুকাররমা সফর করেন। হজ শেষে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে বাগদাদ, ইরানসহ বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেন।
ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি তিনি আত্মশুদ্ধি ও তাসাউফের সাধনায় মনোনিবেশ করেন। জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে, ১৮৩৮ থেকে ১৮৫২ সাল পর্যন্ত ঢাকার মিরপুরে হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজারে চিল্লা পালন করেন। পরে কলীম শাহ বাগদাদীর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করে কাদেরিয়া তরিকার আধ্যাত্মিক শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর সাধনজীবনের সঙ্গে কাদেরিয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া ও মুজাদ্দেদিয়া তরিকার নামও যুক্ত রয়েছে।
তাঁর জীবনবৃত্তান্তে ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে শাহ কারামত আলী জৌনপুরীর সান্নিধ্য লাভ এবং সৈয়দ আহমদ বেরলভির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার তথ্যও জীবনীতে পাওয়া যায়।
ইসলামের প্রচার ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে ঢাকার শাহ সাহেব লেনে মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন হযরত শাহ আহসান উল্লাহ (রহ.)। দরবারের প্রকাশিত জীবনীতে ১৮৭১ সালে এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ রয়েছে। ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি হেকিমি চিকিৎসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বাংলায় জুমার নামাজ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সঙ্গেও তাঁর নাম যুক্ত রয়েছে বলে জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত জীবনী অনুযায়ী, ১৯২৬ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন। ঢাকার শাহ সাহেব লেনে অবস্থিত তাঁর মাজারকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এতিমখানা, হেফজখানা, মাদ্রাসা ও কলেজ কমপ্লেক্স গড়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
এবার তাঁর ১০১তম পবিত্র উরস শরিফ উপলক্ষে একই দিনে পৃথক দুটি আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর বড় ছেলে হযরত শাহ রহমত উল্লাহ (রহ.)-এর বংশধরেরা দিনের বেলায় এবং ছোট ছেলে শাহ আব্দুল লতিফের বংশধরেরা রাতে উরসের আয়োজন করবেন। এ উপলক্ষে ভক্ত, অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি