রবিবার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● ১৬ ঘন্টার ব্যবধানে সন্ধানী ক্লিনিকে আবারো হামলা       ● আধুনিক কৃষিপদ্ধতিতে বদলে যাচ্ছে গ্রামের চিত্র      ● কম খরচে সবজি চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষক      ● স্বাস্থ্যসচেতনতায় পুষ্টি ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব      ● ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার      ● শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান      ● শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান      ● ঝরে পড়া রোধে বাড়ি বাড়ি সচেতনতামূলক প্রচার      ● বগুড়ায় দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা      ● কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু      ● বাইসাইকেল উপহার পেলেন ৫৪৮ জন ছাত্রী      ● বালিকা মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি ও আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন      
১৬ ঘন্টার ব্যবধানে সন্ধানী ক্লিনিকে আবারো হামলা
প্রতিনিধি, খুলনা
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১১ পিএম

নগরীতে সন্ধানী ক্লিনিকে ব্যাপক ভাঙচুর ও গুলির ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ক্লিনিকের সোনাডাঙ্গা শাখায় সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রোববার সোয়া ১টার দিকে তারা কর্তব্যরত চিকিৎসককে অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দেয়। তবে ঘটনাটি বেশ রহস্যজনক।

এদিকে শনিবার রাতে বাবুখান রোড শাখায় হামলার পর থেকে ক্লিনিকের মূল ফটক বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। সেবা কার্যক্রমও বন্ধ রেখেছে তারা। এ ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ থানায় কোনো মামলা দায়ের করেনি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন ট্যাংক রোডের মোস্তফা রাজ্জাক, হিরা ও মারুফ। তবে পুলিশ এ ঘটনার মূল হোতা ফাহিমকে না পেয়ে তার বাবাকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ঘটনার পর থেকে মানুষের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রোববার সকালে খুলনা কমার্স কলেজের বিপরীতে সন্ধানী ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার প্রধান ফটক বন্ধ রেখে সামনে বসে রয়েছেন একজন প্রহরী। ভেতরে ভাঙচুর হওয়া দুই চিকিৎসকের চেম্বারের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাচ ও অন্যান্য জিনিসপত্র পরিষ্কার করছেন একজন কর্মী। সাধারণ কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না। এর মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সেখানে কথা হয় সিটি স্ক্যান সহকর্মী মো. জাহিদের সঙ্গে। তিনি ঘটনার বিবরণ জানিয়ে বলেন, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ক্লিনিকে ব্যাপক চাপ ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগে কয়েকজন দুর্বৃত্ত দুই চিকিৎসকের চেম্বারে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা ক্যাশ কাউন্টারে তাণ্ডব চালিয়েছে। শনিবার রাতের পর থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত ডায়াগনস্টিকের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন কর্তৃপক্ষ। তবে ক্লিনিকের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে এখানে মালিকপক্ষের কেউ আসেননি এবং চিকিৎসকরাও আসেননি।

সন্ধানী ক্লিনিকের ম্যানেজার মহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে কেউ কোনো চাঁদা চায়নি। মামলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আটক হিরা বলেন, ফাহিম নামের এক যুবক তাকে সন্ধানী ক্লিনিকের সামনে ডেকে নিয়ে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগে ক্লিনিকে হামলা শুরু হয়।

খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লোকমান হোসেন রিপন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হামলার কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে হামলার ঘটনার মূল হোতা ফাহিমকে না পেয়ে তার বাবাকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

খুলনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে থানায় মামলা দায়ের করার জন্য একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভয়ে তাদের কেউ থানায় আসছেন না।

এদিকে রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত সন্ধানী ক্লিনিকের দ্বিতীয় শাখায় সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তাদের অনেকের মুখে মাস্ক ছিল। এ সময় তারা হাসপাতালের ম্যানেজারকে না পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। দুর্বৃত্তরা ক্লিনিকে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সেখান থেকে বের হয়ে যান। ওই সময় তারা কর্তব্যরত চিকিৎসক পার্থ রায়কে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ঘাড়ে হাত রেখে তাকে ভালো হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। আতঙ্ক সৃষ্টি করার পর দুর্বৃত্তরা ইজিবাইকে করে চলে যায়।

প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্লিনিকে থাকা এক নারী বলেন, ১২-১৩ জন দুর্বৃত্ত মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় ক্লিনিকে প্রবেশ করে। তাদের বয়স আনুমানিক ১৮-১৯ বছর হবে। এদের মধ্যে একজনের হাতে একটি পিস্তল ছিল। তারা স্টাফদের লক্ষ্য করে গালিগালাজ করতে থাকে। উপস্থিত সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। স্টাফদের সঙ্গে তিনিও ক্লিনিক ত্যাগ করে বাইরে অবস্থান করেন। দুর্বৃত্তরা বের হওয়ার আগে কর্তব্যরত চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করে।

ক্লিনিকে উপস্থিত চিকিৎসক পার্থ রায় বলেন, ১২-১৩ জন দুর্বৃত্ত আমার রুমে প্রবেশ করে। তারা আমাকে অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দেয়। ঘাড়ে হাত দেয় এবং ভালো হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। তিনি দুর্বৃত্তদের বলেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি। এখানে চাকরি করি। কোনো লেনদেন থাকলে তা মালিকপক্ষের সঙ্গে আলাপ করার পরামর্শ দেন তিনি। ক্লিনিকে তারা ১৫ মিনিট অবস্থান করার পর চলে যায়।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসেন সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই সাইফুর রহমান। তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন। অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে বলে তিনি জানান।

এ দুটি ঘটনার পর থেকে মালিকপক্ষের কেউ গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে আসেননি। এ বিষয়ে তারা কেউ কোনো কথা বলতেও চাচ্ছেন না।

এদিকে খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানার এসআই মো. সাইফুর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন তারা। অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।








স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : ড. এম এ কাইয়ুম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close