
"হামাগেরে নাতনী জাইমাক আল্লাহ ম্যালা দিন ব্যাঁচা থুক"—বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় এভাবেই প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমানকে দোয়া দিচ্ছিলেন শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট এলাকার ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মোমেনা বেওয়া। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি আবারও চোখের ভালো দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন, তাও একেবারে বিনামূল্যে।
প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ায় দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প ও ছানি অপারেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার মোকামতলার সৈয়দপুরে এবং রোববার শিবগঞ্জ উপজেলার আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে সেবা নিতে আসেন মোমেনার মতো হাজারো নারী-পুরুষ। গাক চক্ষু হাসপাতালের আয়োজনে প্রান্তিক পর্যায়ের অসহায় মানুষগুলোর জন্য অনন্য এই উদ্যোগে সহযোগিতা করে মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশন।
গাক চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রী তনয়ার জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্দেশনায় গাক চক্ষু হাসপাতাল মানবিক এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে পেরে আনন্দিত। দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এ সেবার আওতায় আনা হয়েছে। প্রথম দিনেই মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা প্রদান করার পাশাপাশি প্রায় ৬০০ জনকে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি প্রসঙ্গে গাক চক্ষু হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক মোজাহিদ জানান, বগুড়ার উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি প্রশংসনীয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এই অগ্রযাত্রায় গাকের নির্বাহী পরিচালক ড. খন্দকার আলমগীর হোসেনের নির্দেশনায় গাক চক্ষু হাসপাতাল আন্তর্জাতিক মানের চক্ষু চিকিৎসাসেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে মাত্র। রোববার দিনব্যাপী শিবগঞ্জ এলাকার যারা বিনামূল্যে চিকিৎসা নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করা হবে। যাঁদের বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে চোখের ছানি অপারেশন, থাকা-খাওয়াসহ সবকিছুর ব্যবস্থা করবে গাক চক্ষু হাসপাতাল। এই এলাকার জনগণের জন্য একজন প্রতিমন্ত্রীর যে দরদ, গাকের পক্ষে তিনি তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
রোববার দুপুরে দ্বিতীয় দিনের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে সপরিবারে উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আরও বলেন, আমি আমার আসনের সবার চোখের সমস্যা দূর করতে চাই। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা, খাল খননসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, যার সুফল পর্যায়ক্রমে সবাই পাবেন। সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। এরই মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই সরকার একের পর এক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করে যাচ্ছেন। তিনি জাইমা রহমানের জন্মদিনে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনাসহ জিয়া পরিবারের সবার জন্য দোয়া কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মীর লাবনী আকতার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম, প্রতিমন্ত্রীর মেয়ে মীর সামারা সুনাত কাইনাত, গাকের পরিচালক আবু হাসান কবির, ডা. পলাশ মজুমদার, ডা. আরাফাতসহ মেডিকেল টিম ও রেড ক্রিসেন্ট বগুড়ার সদস্যরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ