
শরতের প্রকৃতিতে সাদা বকের ঝাঁক গ্রামবাংলার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। আশ্বিন-কার্তিক মাসে ধানখেত ও জলাভূমির পানি কমে যাওয়ায় মাছ, ব্যাঙ, চিংড়ি ও জলজ পোকামাকড়সহ নানা ধরনের খাবার সহজেই পায় বক। এই সুযোগে দল বেঁধে খাদ্যের সন্ধানে নামে পাখিগুলো। তবে শেরপুরে বকের এই আনাগোনাকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন শিকারিরা। বিভিন্ন বিলে ফাঁদ পেতে নির্বিচারে বক শিকার করায় হুমকিতে পড়েছে প্রকৃতির ভারসাম্য।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শেরপুরের বিভিন্ন ধানখেত ও জলাভূমিতে বক ধরার জন্য বিশেষ কৌশলে ফাঁদ তৈরি করছেন শিকারিরা। ভোরের আলো ফোটার আগেই ধানখেতে পাতার ঘর তৈরি করে তার ভেতরে লুকিয়ে থাকেন তাঁরা। শেরপুরের অন্তত ৫০টি বিলে তিন শতাধিক ব্যক্তি বক শিকারে জড়িত বলে সূত্র জানিয়েছে।
জেলার সদর উপজেলার পাকুড়িয়া, ধলা, কামারিয়া, ভাতশালা, ইশরি বিল ও কেউটা বিলসহ অন্তত আটটি বিলে বক শিকারের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নকলার পেকুয়া বিল, বড়ডুবি পদ্মাবিল ও কুর্শা বিল, শ্রীবরদীর শৈয়া বিল, বাবুয়া বিল ও বড় বিল, নালিতাবাড়ীর সাপনই বিল, দুফথন বিল, চাংতলা বিল, খুশকি বিল, কলস বিল, ক’শা বিল ও টেংরামারি বিল এবং ঝিনাইগাতীর ধলী বিল, সোনাইকুড়া বিল, পলকা বিল ও বান্ধা বিলসহ বিভিন্ন জলাভূমিতে চলছে পাখি শিকার।
যেভাবে ফাঁদে ফেলা হয় বক
শেরপুর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিকারিরা পাতার তৈরি ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থেকে একটি পোষা বককে রশি দিয়ে লাঠির সঙ্গে বেঁধে ঘরের ওপরে রাখেন। বকের ঝাঁক উড়ে আসতে দেখলে পোষা বকটিকে নাড়াচাড়া করানো হয়। সঙ্গী ভেবে অন্য বকগুলো পাতার ঘরের ওপর এসে বসলে শিকারিরা সেগুলো ধরে ব্যাগে ভরে ফেলেন।
সূত্রটি আরও জানায়, সাধারণত সকালে বক শিকারের তৎপরতা বেশি থাকে। রোদ ওঠার পর শিকার কমে এলে ধরা বকগুলো লোকালয়ে নিয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। আগের তুলনায় প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির প্রবণতা কমলেও গ্রামের বিভিন্ন বাজারে এখনো বক বিক্রি হচ্ছে।
খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগ
পরিবেশপ্রেমীদের মতে, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও খাবারের জায়গা সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নির্বিচারে শিকারের কারণে বকের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। এভাবে শিকার চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এতে জলাভূমির জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, ধরা কিংবা দখলে রাখার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে। বক শিকার বন্ধে আইনের কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং পাখির বিচরণস্থলে নিয়মিত নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ হিউম্যানিটি, ইন্টারাপ্টেড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের (শাইন) নির্বাহী পরিচালক মুগনিউর রহমান মনি বলেন, পাখির প্রতি এমন নির্মমতা বন্ধ করতে হবে। আগামী এক মাস বক শিকারিদের তৎপরতা আরও বাড়তে পারে। এ সময় সবাইকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের জনবল কম থাকায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় মুহূর্তে তাঁদের পাওয়া যায় না। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে বক শিকার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
শেরপুরের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, বক শিকারিরা সক্রিয় রয়েছেন এবং সামনে তাঁদের তৎপরতা আরও বাড়তে পারে। তাঁরা প্রতিদিন সাধ্যমতো অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে বিলের মধ্যে শিকার হওয়ায় এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় লোকবল পাওয়া না যাওয়ায় অভিযান পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। শিকারিরাও নানা কৌশল অবলম্বন করেন।
তিনি মনে করেন, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে বক নিধন বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য স্থানীয় মানুষসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
শরতের সকালে ঝাঁক বেঁধে খাদ্যের সন্ধানে বের হওয়া কিংবা সন্ধ্যায় বিশেষ শব্দে আবাসস্থলে ফিরে আসা বকের দৃশ্য গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে অনন্য সৌন্দর্য দেয়। এই সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বক শিকার বন্ধ করে পাখিগুলোর নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।শরতের প্রকৃতিতে সাদা বকের ঝাঁক গ্রামবাংলার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। আশ্বিন-কার্তিক মাসে ধানখেত ও জলাভূমির পানি কমে যাওয়ায় মাছ, ব্যাঙ, চিংড়ি ও জলজ পোকামাকড়সহ নানা ধরনের খাবার সহজেই পায় বক। এই সুযোগে দল বেঁধে খাদ্যের সন্ধানে নামে পাখিগুলো। তবে শেরপুরে বকের এই আনাগোনাকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন শিকারিরা। বিভিন্ন বিলে ফাঁদ পেতে নির্বিচারে বক শিকার করায় হুমকিতে পড়েছে প্রকৃতির ভারসাম্য।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শেরপুরের বিভিন্ন ধানখেত ও জলাভূমিতে বক ধরার জন্য বিশেষ কৌশলে ফাঁদ তৈরি করছেন শিকারিরা। ভোরের আলো ফোটার আগেই ধানখেতে পাতার ঘর তৈরি করে তার ভেতরে লুকিয়ে থাকেন তাঁরা। শেরপুরের অন্তত ৫০টি বিলে তিন শতাধিক ব্যক্তি বক শিকারে জড়িত বলে সূত্র জানিয়েছে।
জেলার সদর উপজেলার পাকুড়িয়া, ধলা, কামারিয়া, ভাতশালা, ইশরি বিল ও কেউটা বিলসহ অন্তত আটটি বিলে বক শিকারের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নকলার পেকুয়া বিল, বড়ডুবি পদ্মাবিল ও কুর্শা বিল, শ্রীবরদীর শৈয়া বিল, বাবুয়া বিল ও বড় বিল, নালিতাবাড়ীর সাপনই বিল, দুফথন বিল, চাংতলা বিল, খুশকি বিল, কলস বিল, ক’শা বিল ও টেংরামারি বিল এবং ঝিনাইগাতীর ধলী বিল, সোনাইকুড়া বিল, পলকা বিল ও বান্ধা বিলসহ বিভিন্ন জলাভূমিতে চলছে পাখি শিকার।
যেভাবে ফাঁদে ফেলা হয় বক
শেরপুর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিকারিরা পাতার তৈরি ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থেকে একটি পোষা বককে রশি দিয়ে লাঠির সঙ্গে বেঁধে ঘরের ওপরে রাখেন। বকের ঝাঁক উড়ে আসতে দেখলে পোষা বকটিকে নাড়াচাড়া করানো হয়। সঙ্গী ভেবে অন্য বকগুলো পাতার ঘরের ওপর এসে বসলে শিকারিরা সেগুলো ধরে ব্যাগে ভরে ফেলেন।
সূত্রটি আরও জানায়, সাধারণত সকালে বক শিকারের তৎপরতা বেশি থাকে। রোদ ওঠার পর শিকার কমে এলে ধরা বকগুলো লোকালয়ে নিয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। আগের তুলনায় প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির প্রবণতা কমলেও গ্রামের বিভিন্ন বাজারে এখনো বক বিক্রি হচ্ছে।
খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগ
পরিবেশপ্রেমীদের মতে, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও খাবারের জায়গা সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নির্বিচারে শিকারের কারণে বকের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। এভাবে শিকার চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এতে জলাভূমির জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, ধরা কিংবা দখলে রাখার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে। বক শিকার বন্ধে আইনের কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং পাখির বিচরণস্থলে নিয়মিত নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ হিউম্যানিটি, ইন্টারাপ্টেড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের (শাইন) নির্বাহী পরিচালক মুগনিউর রহমান মনি বলেন, পাখির প্রতি এমন নির্মমতা বন্ধ করতে হবে। আগামী এক মাস বক শিকারিদের তৎপরতা আরও বাড়তে পারে। এ সময় সবাইকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের জনবল কম থাকায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় মুহূর্তে তাঁদের পাওয়া যায় না। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে বক শিকার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
শেরপুরের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, বক শিকারিরা সক্রিয় রয়েছেন এবং সামনে তাঁদের তৎপরতা আরও বাড়তে পারে। তাঁরা প্রতিদিন সাধ্যমতো অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে বিলের মধ্যে শিকার হওয়ায় এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় লোকবল পাওয়া না যাওয়ায় অভিযান পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। শিকারিরাও নানা কৌশল অবলম্বন করেন।
তিনি মনে করেন, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে বক নিধন বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য স্থানীয় মানুষসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
শরতের সকালে ঝাঁক বেঁধে খাদ্যের সন্ধানে বের হওয়া কিংবা সন্ধ্যায় বিশেষ শব্দে আবাসস্থলে ফিরে আসা বকের দৃশ্য গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে অনন্য সৌন্দর্য দেয়। এই সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বক শিকার বন্ধ করে পাখিগুলোর নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ