| শিরোনাম: |

সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ৩৩ দিন ধরে অচলাবস্থা চলছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৩৩টি পরীক্ষা ও ৮৬৪টি নিয়মিত ক্লাস বাতিল হয়েছে। এতে সেশনজটের শঙ্কায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। পূজার ছুটি শেষে রোববার বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা থাকলেও ক্যাম্পাসের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
চুয়েটে বর্তমানে পাঁচটি অনুষদের অধীনে ১৮টি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মোট ৬ হাজার ৩৬৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সংহতি প্রকাশ করে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। গত ১০ দিনের পূজার ছুটিতে ক্যাম্পাস অনেকটাই ফাঁকা থাকলেও শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবিতে অনড় রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনের কারণে পাঁচটি অনুষদের ১২টি বিভাগের ৩৩টি পরীক্ষা ও ৮৬৪টি নিয়মিত ক্লাস বাতিল হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে অটল আছি। ক্যাম্পাস খোলার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে ক্লাস ও পরীক্ষা সচলের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অরিন্দম দাশ বলেন, ‘গত ৩৩ দিন ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ। আন্দোলন চলছে, কিন্তু এখনো পরিকল্পিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা এই অচলাবস্থার সমাধান চাই।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই রাতেই বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন। পরে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও আন্দোলনে যুক্ত হন।
টানা অচলাবস্থার মধ্যে গত ১২ অক্টোবর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। পরে আন্দোলনকারীদের হাতে অবরুদ্ধ হন তিনি। প্রায় ৩৪ ঘণ্টা পর ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রশাসনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে গত ১৬ অক্টোবর অনলাইনে চুয়েটের ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ সদস্যের সিন্ডিকেটের ছয়জনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সংকট নিরসনে নিরপেক্ষ পরামর্শক কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়। তবে সভায় চুয়েটের কোনো শিক্ষক বা প্রতিনিধি অংশ নেননি।
এরপর ১৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুনকে আহ্বায়ক এবং ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসানকে সদস্যসচিব করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের রাখা হলেও চুয়েটের কোনো শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চুয়েটের শিক্ষকেরা।
কমিটি গঠনের পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো বৈঠক হয়নি বলে জানিয়েছেন কমিটির এক সদস্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, কমিটির আহ্বায়ক এখনো কোনো সভা আহ্বান করেননি। সভা হলে সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
দীর্ঘ অচলাবস্থার মধ্যে ক্লাস ও পরীক্ষা কবে থেকে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ