
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের কাউয়ারপাড়া এলাকায় পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, দখলচেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৪০ শতক জমির মালিকানা নিয়ে এক ব্যক্তি বিরোধ শুরু করেছেন। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার, জমির নথিপত্র যাচাই এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজারের এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমির সুলতান বলেন, তাঁর বাবা প্রয়াত বদরুদ্দোজা ১৯৯০ সালে মকবুল আহমদের ওয়ারিশ ওবায়দুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ শতক এবং অলি আহমদের ওয়ারিশ হালিমা বেগমের কাছ থেকে আরও ৪০ শতক জমি কেনেন। সব মিলিয়ে ক্রয় করা ৮০ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবার ভোগদখল করে আসছে।
আমির সুলতানের অভিযোগ, ২০১৫ সালে অন্য ওয়ারিশের কাছ থেকে ৪০ শতক জমি কেনেন মোর্শেদুর রহমান খোকন। সেই জমি ভোগদখলে থাকা সত্ত্বেও তাঁর বাবার ক্রয়কৃত পৃথক ৪০ শতক জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করছেন। এ ক্ষেত্রে খোকনের উপস্থাপিত খতিয়ানের সত্যতা ও আইনগত ভিত্তি যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি।
আমির সুলতান বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করার পর তাঁর বিরুদ্ধে থানা ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের মাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কক্সবাজার সদর থানার একজন তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত ও কাগজপত্র যাচাই করেছেন। তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি—এমন দাবির বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যাচাই করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে জমিসংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আমির সুলতান বলেন, তাঁদের কাছে জমি ক্রয়ের দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। অপর পক্ষেরও কোনো বৈধ দলিল বা মালিকানার প্রমাণ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ভূমি কর্তৃপক্ষ কিংবা আইনগত প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা উচিত। প্রয়োজনে সদর থানা, জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে নথিপত্র যাচাই করে আলোচনায় বসতেও তাঁরা প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিরোধ চাই না। জমির মালিকানা নির্ধারণ হোক বৈধ দলিল, ভূমি রেকর্ড ও নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে। কাগজপত্র যাচাই করে আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত হবে, আমরা তা মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে অযথা ভয়ভীতি বা হয়রানি কাম্য নয়।”
একই এলাকার সেলিমের জমি নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলে ধরেন আমির সুলতান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেলিম কয়েক বছর আগে খোকনের কাছে ৪০ শতক জমি বিক্রি করেন। পরে ৬০ শতক জমি দখল করা হয়েছে বলে সেলিম অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়ভাবে সামাজিক বৈঠকে অতিরিক্ত ২০ শতক জমি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন আমির সুলতান। তিনি পৈতৃক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি, দখলচেষ্টার অভিযোগ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ