প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৩ AM

শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়াতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রস্তাবে আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ দিয়ে ব্যাংকঋণ পরিশোধের সুযোগ এবং নতুন শেয়ার ইস্যুর পাশাপাশি উদ্যোক্তা বা বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বাজারে তালিকাভুক্তির ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতি চালুর কথা বলা হয়েছে।
বর্তমানে আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ দিয়ে ব্যাংকঋণ পরিশোধ করা যায়। নতুন প্রস্তাবে এ সীমা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার পাশাপাশি ঋণটি কোম্পানির প্রকল্প বা বিএমআরই কাজে ব্যবহৃত হওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট সম্পদ, বিক্রি বা মালিকানার যোগ্যতা পূরণ করা বড় ও বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিকে হাইব্রিড পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দেও পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ৩৫ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ১০ শতাংশ, কোম্পানির স্থায়ী কর্মচারীরা ৫ শতাংশ, প্রবাসী বাংলাদেশিরা (এনআরবি) ১০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ৪০ শতাংশ শেয়ার পাবেন। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশোধনীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বড় বিনিয়োগনির্ভর খাতের কোম্পানিগুলোর জন্যও বিশেষ সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। অন্তত ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ থাকা নির্দিষ্ট ধরনের কোম্পানি পুঞ্জীভূত লোকসানে থাকলেও আইপিওতে আসতে পারবে, তবে তালিকাভুক্তির দুই বছরের মধ্যে লাভজনক হওয়ার পরিকল্পনা প্রসপেক্টাসে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে আইপিওর অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহারের জন্য পৃথক এসক্রো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, স্বাধীন অডিটরের মাধ্যমে প্রাক-আইপিও যাচাই এবং ভুল তথ্যের দায় অডিটর ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিএসইসির প্রস্তাবের লক্ষ্য হিসেবে শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করার বিষয়টি উঠে এসেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি