প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮ AM

ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের গড় ভাড়া ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার থেকে বেড়ে ২০ ডলারে পৌঁছেছে। এক বছরে ভাড়া বেড়েছে ১৭ ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি, ট্যাংকারে হামলা এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বাড়ছে। মার্কিন বিনিয়োগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় স্বল্প মেয়াদে এ ভাড়া ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে তেল পরিবহনের ভাড়া ব্যারেলপ্রতি ৩৫ ডলারে উঠেছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধঝুঁকির জন্য অতিরিক্ত ৭ ডলার, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে ৪ ডলার এবং ওমান উপসাগরে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরে আরও ৪ ডলার খরচ হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস, চলতি বছরের শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে থাকতে পারে। তবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জাহাজে হামলা ও তেল অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির কারণে দাম এ পূর্বাভাস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। গত বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৩৪ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ছিল ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলার।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলবাহী সুপারট্যাংকারের ভাড়াও রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। গত সেপ্টেম্বরে পারস্য উপসাগর থেকে চীন পর্যন্ত তেল পরিবহনে একটি সুপারট্যাংকারের দৈনিক ভাড়া ছিল ১০ লাখ ডলার, যা অক্টোবরের শুরুতে পূর্ব এশিয়ার রুটে ১৪ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এদিকে, ওমান উপসাগরে বড় ট্যাংকারগুলোকে কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তর করতে হচ্ছে। বিশ্ববাজারভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পারস্য উপসাগর থেকে দৈনিক তেল সরবরাহ কমে ৮৫ লাখ ব্যারেলে নেমেছে, যেখানে দুই সপ্তাহ আগেও তা ছিল দুই কোটি ব্যারেলের বেশি। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প-কারখানার খরচও বেড়ে যেতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি