প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রার ওঠানামা দেখা দেয়। এ সময় অনেকের সর্দি, কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যা হতে পারে। শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভালো রাখতে তাই খাবারের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর কিছু খাবার রাখলে শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়।
কোনো একটি খাবারই রোগ প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয় না। তবে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। এমন পাঁচটি খাবার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
১. লেবুজাতীয় ফল
কমলা, জাম্বুরা ও লেবুর মতো ফলে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সকালের নাস্তায় কমলা বা জাম্বুরা খাওয়া কিংবা খাবারের সঙ্গে লেবু যোগ করা যেতে পারে।
২. রসুন
রসুনে অ্যালিসিনসহ বেশ কিছু সক্রিয় যৌগ রয়েছে, যেগুলোর বিভিন্ন জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। রান্নায় নিয়মিত রসুন ব্যবহার করে খাদ্যতালিকায় এই উপাদান যোগ করা যায়। তবে রসুন খাওয়াই সর্দি-কাশি প্রতিরোধ বা নিরাময়ের নিশ্চয়তা নয়।
৩. আদা
আদায় প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উপাদান রয়েছে। গলা ব্যথা ও বমি বমি ভাবের মতো কিছু সমস্যায় আদা উপকার দিতে পারে। শীতের সময়ে চা, স্যুপ কিংবা বিভিন্ন রান্নায় আদা ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. দই
দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। অন্ত্রের সুস্থতার সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সম্পর্ক রয়েছে। নাশতায় টক দইয়ের সঙ্গে তাজা ফল যোগ করে খাওয়া যেতে পারে। তবে দইয়ের উপকারিতা এর ধরন ও উপাদানের ওপর নির্ভর করে।
৫. পালং শাক
পালং শাকে ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিন ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সচল রাখতে সহায়তা করে। সালাদ, স্যুপ কিংবা রান্নার মাধ্যমে খাদ্যতালিকায় পালং শাক রাখা যেতে পারে। হালকা রান্না করলে এর কিছু পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য সহজলভ্য হতে পারে।
সুস্থ থাকতে আরও যা জরুরি
ঋতু পরিবর্তনের সময়ে সুস্থ থাকতে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। বরং বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সতর্ক থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ