
ডিমের পুষ্টিগুণ, সহজলভ্যতা ও খাদ্যনিরাপত্তায় এর অবদান তুলে ধরতে আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রোটিন শক্তি জোগায় ও সুরক্ষা দেয়’। দেশে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০৯ কোটি ৪১ লাখ ডিম উৎপাদিত হলেও পুষ্টিচাহিদা পূরণে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা ২০৮টিতে উন্নীত করতে হবে। বর্তমানে এ প্রাপ্যতা প্রায় ১৪০টি। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী চার বছরে মাথাপিছু প্রাপ্যতা আরও প্রায় ৬৮টি বাড়াতে হবে।
যেভাবে শুরু বিশ্ব ডিম দিবস
১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) বিশ্ব ডিম দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে প্রতিবছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবার ৩০তম বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হচ্ছে।
ডিমের উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিন, পুষ্টিগুণ, সহজলভ্যতা এবং খাদ্যনিরাপত্তায় এর ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশে নানা কর্মসূচি
বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও আলোচনাসভা।
এক দশকে ডিম উৎপাদন বেড়েছে ৬৮ শতাংশ
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০৯ কোটি ৪১ লাখ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। গত ১০ বছরে ডিম উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। উৎপাদন বাড়লেও মাথাপিছু প্রাপ্যতা ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রায় নিতে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং খামারিদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে ডিমের বাজারদর ও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ
পোলট্রি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) জানিয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং শিশু-কিশোরদের পুষ্টিচাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিমের উৎপাদন বাড়ানো জরুরি।
বিশ্ব ডিম দিবসে ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাশ্রয়ী দামে ডিমের সরবরাহ নিশ্চিত করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং খামারিদের ন্যায্য মূল্য দেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি