
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামছুল আজম, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম আব্দুল হালিম, সরকারি ইয়াছিন কলেজের অধ্যক্ষ ড. নিখিল রঞ্জন বিশ্বাস, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাতীন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন।
এ ছাড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ ঘোষাল, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হাফিজুর রহমান, সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আশরাফ আলী, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শিরিন আক্তার, জেলা কারাগারের সুপার শওকত হোসেন মিয়া, জেলা আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট চন্দন দেবনাথ, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গীসহ বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, শহরের যানজট নিরসন এবং মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলার সব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এ জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপ চিহ্নিতকরণ, পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মাদকের বিস্তার রোধে জেলা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার যৌথ অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় মাদক, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দমনের পাশাপাশি শহরের যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বাজারজাতকরণের ওপর আরোপিত সরকারি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ