প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের বার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে থাইল্যান্ড। আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হবে এ সম্মেলন। এতে বিশ্বের ১৯১টি দেশ থেকে ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। তাঁদের মধ্যে থাকবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা। সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্মেলন ঘিরে ব্যাংককে যানজট কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ। ১২, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর সরকারি দপ্তরের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর আগে থেকেই সরকারি ছুটি রয়েছে। এ ছাড়া ১৬ অক্টোবর বিশেষ সরকারি ও ব্যাংক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোকেও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের মূল ভেন্যু এবং ব্যাংককের ২১টি নির্ধারিত হোটেলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সম্মেলনস্থল, প্রতিনিধিদের আবাসন ও পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রায় ৫০০ পর্যটন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তাব্যবস্থায় গোপন নজরদারি, টহল, ড্রোন এবং প্রতিনিধিদের গাড়িবহরের সুরক্ষার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
থাইল্যান্ডের পর্যটন পুলিশের প্রধান ফংসিয়াম মিখানথং জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ও সমন্বয়ের কাজে প্রায় ৩৯টি দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
সম্মেলনে যোগ দিতে আসা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গি পারমেলিন এবং সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট থারমান শানমুগারত্নম। থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২২ বছরের মধ্যে এই প্রথম সুইজারল্যান্ডের কোনো প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিক সফরে থাইল্যান্ডে আসছেন।
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ারও আশা করছে থাইল্যান্ড। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের ব্যয়ের ফলে দেশটির অর্থনীতিতে ১০৫ কোটি থেকে ২২৫ কোটি বাথ পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতে প্রতিনিধিদের যাতায়াতের জন্য ৩২০টির বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহার করা হবে।
তবে সম্মেলনের প্রস্তুতির মধ্যেই আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্যাংকক ও আশপাশের প্রদেশগুলোতে ১০ ও ১১ অক্টোবর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে দুই সপ্তাহ আগে মাত্র তিন দিনে ৩২০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর ব্যাংককের কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। নতুন করে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে সম্মেলন চলাকালে প্রতিনিধিদের যাতায়াত ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি