প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। প্রবাসফেরত যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসব অপরাধে পেশাদার ডাকাতদের ভাড়ায় ব্যবহার করছে প্রভাবশালী চক্র। অপরাধে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হলেও নেপথ্যে থাকা চক্রের সদস্যদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায় চক্রের সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি এমন একটি ডাকাতির শিকার হন চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়া থানার সামাদ গাজী বাড়ির বাসিন্দা মো. খোরশেদ। গত ৬ জুলাই দুবাইপ্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে শাহবাগ এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি তাকে একটি কালো গাড়িতে তুলে নেয়। পরে তার চোখ ও হাত-পা বেঁধে ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ফেলে রেখে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দর ও আশপাশের সড়কে প্রবাসফেরত যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি করা হচ্ছে। চক্রের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে প্রকাশ্যে ভুক্তভোগীদের গাড়িতে তুলে নেয়। পরে মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। চুক্তি অনুযায়ী ডাকাতির কাজ শেষ করে তারা অর্থ পায় এবং দ্রুত ঢাকা ছেড়ে প্রত্যন্ত এলাকায় চলে যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাতদের জামিনে মুক্ত করতে এক শ্রেণির আইনজীবীর সঙ্গে চুক্তি থাকার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওই আইনজীবীরা বাকিতে আইনি সহায়তা দেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির বলেন, বিমানবন্দরসহ উত্তরা এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায়। অনেক কষ্টে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে তারা আবার অপরাধে জড়াচ্ছে। তবে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকায় ডাকাতি অনেকাংশে কমেছে বলে জানান তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি