
কৃষিকাজে কোনো লজ্জা নেই উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন, মাঠে যেতে হবে এবং নিজেদের ফসল নিজেদেরই উৎপাদন করতে হবে। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইনস্টিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে ‘টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গরুর দুধ খাই, মাংস খাই, তাহলে গরুর গোবর ফেলতে কিসের লজ্জা? সীমিত সম্পদ নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনের জন্য পৃথিবীর অন্যতম উর্বর স্থান। এ দেশের মাটি, বাতাস, আলো ও বৃষ্টির পাশাপাশি মানুষের পরিশ্রম কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তবে ফসলে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে বহু মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন, যার একটি বড় অংশ কৃষক বলে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে।
আগামী প্রজন্মকে রক্ষা এবং নিজেদের সুস্থ রাখতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে খাবারের অভাব না থাকলেও নিরাপদ খাদ্যের ঘাটতি রয়েছে।
কৃষিপণ্যের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাইরে থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। বাংলাদেশ একদিন পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করবে—এমন স্বপ্ন দেখছে সরকার।
তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও এখনো কাঁচা মরিচ, গাজর ও টমেটো আমদানি করতে হয়। তবে ভবিষ্যতে এসব পণ্য আমদানি করতে হবে না, বরং বাংলাদেশই রপ্তানি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছুটির দিনে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবাকে কৃষিকাজে সহযোগিতা করছেন—এমন দৃশ্য তাঁকে আশাবাদী করেছে বলেও মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাঁদের প্রশংসা করেন।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হাসান।
স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী। এ সময় সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ