
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে চিহ্নিত মাদক কারবারি সুজা মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক কারবারের গোমর ফাঁস করে দেওয়ায় সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শাহিনকে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শাহিন তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে উত্তরবঙ্গের ইয়াবা ডিলার সুজার মাদক ব্যবসা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্ট্যাটাস দেন। এতে সাংবাদিক শাহিনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সুজা একাধিক মোবাইল নম্বর থেকে তাঁকে অব্যাহতভাবে হুমকি দিতে থাকেন।
এরই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ০১৬২০৭১৬৩৩৫ নম্বর থেকে মাদক কারবারি সুজা ফের সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শাহিনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
মাদক ব্যবসায়ী সুজা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিয়া চৌরাস্তা মোড়ের মমতাজ আলীর ছেলে। তিনি একাধিক মামলার আসামি বলে জানা গেছে।
ইয়াবা ব্যবসায়ী সুজা প্রতিনিয়ত একইভাবে বিভিন্ন নম্বর থেকে মোবাইল ফোনে সাংবাদিক শাহিনকে হুমকি দেন। তাঁর অব্যাহত হুমকিতে সাংবাদিক শাহিন ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এমন অবস্থায় গত ৬ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক শাহিন নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেও তেমন কোনো আইনি প্রতিকার পাননি। এমনকি অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলেও পুলিশ সুজার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি।
সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শাহিন সাদুল্লাপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রতিনিধি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, মাদক সম্রাট সুজা বেশ কিছুদিন ধরে ০১৭৪০৯৫৮২৪৫ নম্বরসহ চার-পাঁচটি নাম-বেনামের মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শাহিনকে অকথ্য ভাষায় বকাঝকা, মিথ্যা অপবাদ ও প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।
ওই সময় সাদুল্লাপুর থানার চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ এসআই আবু তালেব অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু অদ্যাবধি মাদক ব্যবসায়ী সুজার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক শাহিন অভিযোগ করে আরও বলেন, সুজা গোটা উত্তরবঙ্গে ইয়াবা বিক্রির ডিলার হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গাসহ গোটা উত্তরবঙ্গে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য বেচাকেনা করে আসছিলেন।
আনুমানিক পাঁচ-ছয় মাস আগে সুজা নলডাঙ্গায় তাঁর মেয়ের সমবয়সী এক মেয়েকে জোরপূর্বক দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই সুবাদে তিনি নলডাঙ্গায় অবাধে যাতায়াতের সুযোগে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য বেচাকেনা শুরু করেন। কিন্তু তাঁর এই অবৈধ ব্যবসা মেনে নিতে পারেননি দ্বিতীয় পক্ষের শ্বশুর-শাশুড়ি। তাঁরা এ ব্যবসা না করার জন্য তাঁকে বারবার নিষেধ করেন। কিন্তু এরপরও সুজা শ্বশুর-শাশুড়ির বাধা উপেক্ষা করে তাঁর ব্যবসা চালিয়ে যান। এ নিয়ে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে সুজার অবৈধ মাদক ব্যবসার বিষয়টি সর্বত্র জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মাদক ব্যবসার ভয়াবহ কারবারের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে মাথায় বাজ পড়ে সুজার।
তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, হুমকির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও পুলিশের কাছে কোনো গুরুত্ব না পাওয়ায় মাদক সম্রাট সুজা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, নলডাঙ্গায় কতিপয় মাদক কারবারির দুষ্টচক্রের সঙ্গে মাদক কারবারের সুবাদে সুজার গভীর সখ্য রয়েছে। সেই চক্রের পৃষ্ঠপোষকতা ও মদদে মাদক কারবারি সুজা সাংবাদিক শাহিনকে প্রায়ই হুমকি দেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সুজা একজন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির দাঙ্গাবাজ ও মামলাবাজ। এ কারণে তাঁর অবৈধ ব্যবসার বিষয়টি এলাকার অনেকে জানলেও তাঁকে কেউ কিছু বলার সাহস পান না। কেউ কিছু বললেই তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে থাকেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে এখন কেউ কিছু না বলায় তিনি বীরদর্পে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিদ্যমান এ পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় এখন সহজেই মিলছে ইয়াবা, গাঁজাসহ নানা ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য। আর এই মাদকের কালো থাবায় এলাকার অনেক যুবক ধ্বংস হয়ে নিজেদের সোনালি সুন্দর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবিয়ে ফেলছেন।
ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, একসময় বাপের টাকায় সুজা মাদক সেবন করে ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতেন। পরে তিনি নিজেই এ ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে এ ব্যবসার মাধ্যমে অল্প দিনেই তিনি অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন।
এদিকে সাংবাদিক শাহিনকে হুমকি দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাদুল্লাপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি শহিদুল হক, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসানুল হুদা রাশেদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া উদ্বেগজনক এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মাদক কারবারি সুজাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জোর দাবি জানান।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ