প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৬ পিএম

টানা ভারি বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক। শহরটির অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। বন্যাজনিত ঘটনায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর ৫০টি জেলাতেই দুর্যোগ ঘোষণা করেছে সরকার। আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন হাজারো মানুষ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংককের কোনো কোনো এলাকায় মাত্র দুই দিনে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। নিহতদের মধ্যে অনেকে পানিতে ডুবে এবং কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। নগরীর ২৩০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন হাজারো বাসিন্দা।
বন্যার প্রভাব পড়েছে ব্যাংককের প্রধান সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরেও। থাই এয়ারওয়েজের প্রায় অর্ধেক কর্মী একপর্যায়ে কাজে যোগ দিতে না পারায় বিমানবন্দরে হাজারো লাগেজ জমে যায়। এ পরিস্থিতিতে কিছু ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।
খাল সংকোচনে কমেছে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা
চাও ফ্রায়া নদীর প্লাবনভূমিতে গড়ে ওঠা ব্যাংককের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা মূলত খাল, পাম্প ও বাঁধের ওপর নির্ভরশীল। তবে নগরায়ণের কারণে খালের নেটওয়ার্ক সংকুচিত হওয়ায় পানি সরানোর সক্ষমতা কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংককের নিষ্কাশনব্যবস্থা ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত সামলাতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কোনো কোনো এলাকায় সেই সীমা অতিক্রম করায় জলাবদ্ধতা তীব্র হয়েছে।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চল থেকে নেমে আসা পানির কারণে ব্যাংকক এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে। আগামী সপ্তাহেও ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর।
মিয়ানমারেও প্রাণহানি
একই আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাবে প্রতিবেশী মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিধসে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও আটজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উষ্ণায়নের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অতিবৃষ্টির ঝুঁকি বাড়ছে। তবে ব্যাংককের এবারের বৃষ্টিপাতকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হিসেবে চিহ্নিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ