
গাইবান্ধায় জনমত উপেক্ষা করেই শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কথিত শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। শহরের ভিএইচডি রোডে সদর উপজেলা মডেল স্কুল ও কলেজের পাশে পরিত্যক্ত ম্যাজিস্ট্রেট কোয়ার্টার মাঠে গত বৃহস্পতিবার এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা. মইনুল হাসান সাদিক।
কথিত এই শিল্প ও বাণিজ্য মেলার পাশে গণপূর্ত অফিস, পিটিআই, পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়, কৃষি ইনস্টিটিউট, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, সরকারি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়, হর্টিকালচার ইনস্টিটিউট, আদর্শ ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় ও মসজিদ-মন্দিরসহ নানা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বলা হচ্ছে, গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এই মেলার আয়োজন করেছে। কিন্তু মূলত চেম্বারের ব্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সাধারণ ব্যবসায়ী, অভিভাবক ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর উপজেলা মডেল স্কুল ও কলেজের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন। এই মেলার আয়োজক মূলত দিনাজপুরের এক ‘মেলা ব্যবসায়ী’। তার ব্যবসা হলো বিভিন্ন জেলায় চেম্বার বা কোনো প্রভাবশালী সংগঠনের ব্যানারে মেলার আয়োজন করা।
কথিত এই শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় স্থানীয় উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততা নেই, লোক দেখানো মাত্র কয়েকজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীর স্টল আছে। তাহলে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে?
তারা আরও অভিযোগ করেন, স্কুলের পাশে বাণিজ্য মেলা না করে শহরের অদূরে সুবিধাজনক স্থানে এ আয়োজন করা যেত। ব্যবসায়ীরা বলেন, কোনো জায়গায় বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রমোট করার জন্য। সে বাণিজ্য মেলা সেখানকার উন্নয়নে অবদান রাখে। কিন্তু গাইবান্ধায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে কীভাবে বাণিজ্য মেলা চলে?
ফুটপাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ—বাণিজ্য মেলা শুরু হওয়ায় আমাদের বেচাবিক্রি নেই বললেই চলে। এই দুঃসময়ে আমরা একদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছি, অপরদিকে আর্থিক কষ্টে নিপতিত হচ্ছি। আমরা সংসারের ব্যয়ভার নির্বাহ করতে পারছি না।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্কুলের পাশে বাণিজ্য মেলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, স্কুল চলে দুপুর পর্যন্ত আর মেলা শুরু হয় বিকেল থেকে। স্কুলের বিষয়টি মাথায় রেখে মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য মেলা চলবে এক মাস আর ব্যবসায়ীরা সারাবছরই ব্যবসা করবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ