
বয়স মাত্র ১০ বছর। এরই মধ্যে ফ্যাশন দুনিয়ায় নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে ম্যাক্স আলেকজান্ডার। খুদে এই ডিজাইনারের ঝুলিতে এখন চারটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। সম্প্রতি নিউইয়র্কে নিজের প্রথম টেকসই কাপড়ের সংগ্রহ প্রকাশের পাশাপাশি সেলাই মেশিনে সুতা পরানোর নতুন রেকর্ড গড়ে আবারও আলোচনায় এসেছে সে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজের তৈরি প্রথম ফ্যাব্রিক সংগ্রহ প্রকাশ করে ম্যাক্স। মড ফ্যাব্রিকসের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই সংগ্রহের মাধ্যমে নিজস্ব ফ্যাব্রিক লাইন প্রকাশ করা সবচেয়ে কম বয়সী ডিজাইনারের রেকর্ড গড়ে সে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ম্যাক্সের নতুন সংগ্রহে রয়েছে ১৫ ধরনের টেকসই উপাদান। এর মধ্যে রয়েছে বিসিআই কটন, ইউরোপিয়ান ফ্ল্যাক্স লিনেন, ইকোভারো ভিসকস এবং রিসাইকেলড পলিস্টার ফক্স ফুর।
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে ম্যাক্স বলেছে, ‘এই সংগ্রহের মূল ভাবনা হলো, ছোট একটি পছন্দও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। টেকসই জীবনযাপনের অর্থ সবকিছু নিখুঁত হতে হবে এমন নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্ত ও অভ্যাসে পরিবর্তন আনাও বড় কিছু তৈরি করতে পারে।’
নিউইয়র্কের ওই অনুষ্ঠানেই আরও একটি রেকর্ড গড়ে ম্যাক্স। সেলাই মেশিনে মাত্র ১০ দশমিক ১৬ সেকেন্ডে সুতা পরিয়ে দেয় সে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের একজন বিচারক রেকর্ডটি নিশ্চিত করেন এবং দর্শকদের করতালির মধ্যে তার হাতে সনদ তুলে দেন।
ফ্যাশন দুনিয়ায় ম্যাক্সের পথচলা অবশ্য শুরু হয়েছিল আরও আগে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে মাত্র সাত বছর বয়সে রানওয়ে শো ডিজাইন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হিসেবে প্রথম গিনেস রেকর্ড গড়ে সে। মাত্র চার বছর বয়স থেকেই পোশাক ডিজাইন ও সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছিল ম্যাক্স। প্রথম রেকর্ড পাওয়ার আগেই সে শতাধিক ডিজাইন তৈরি করেছিল এবং তার তৈরি পোশাক বিভিন্ন দেশেও বিক্রি হয়েছে।
২০২৬ সালের মার্চে প্যারিস ফ্যাশন উইকে নিজের সংগ্রহ প্রদর্শন করে আরও একটি নজির গড়ে ম্যাক্স। এর মাধ্যমে ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী ডিজাইনার হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ ফ্যাশন আয়োজনে অংশ নেয় সে। প্যারিসের সেই সংগ্রহেও পরিবেশবান্ধব উপাদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
ম্যাক্স জানিয়েছিল, প্যারিসের সংগ্রহের ৯০ শতাংশ পোশাক টেকসই উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। ফুল থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি ওই সংগ্রহে পুরোনো অবিক্রীত কাপড়, অতিরিক্ত মজুত থাকা উপকরণ, পুনর্ব্যবহৃত ব্যাগ ও বায়োডিগ্রেডেবল কাপড় ব্যবহার করা হয়। পুরো সংগ্রহ তৈরি করতে তার প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছিল।
শৈশব থেকেই ফ্যাশনের প্রতি ম্যাক্সের আগ্রহ ছিল। ২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে মজা করে সে বলেছিল, আগের জন্মে সে গুচির প্রতিষ্ঠাতা গুচ্চিও গুচি ছিল। এমনকি এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সে জোর দিয়ে বলেছিল, ‘আমি আসলেই ছিলাম।’
ম্যাক্সের তৈরি পোশাক ইতোমধ্যে হলিউড অভিনেত্রী শ্যারন স্টোন ও ডেবরা মেসিংয়ের মতো তারকারাও পরেছেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালে টাইম ১০০ ক্রিয়েটরস তালিকাতেও জায়গা পেয়েছে এই খুদে ডিজাইনার।
বর্তমানে মড ফ্যাব্রিকসের ওয়েবসাইটে ম্যাক্সের নতুন ফ্যাব্রিক সংগ্রহ পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠানটির স্টোরেও এই সংগ্রহ পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি