বৃহস্পতিবার ● ১ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● গ্রিড ব্যবহারে সর্বোচ্চ মাশুল ১ টাকা ৯০৯৭ পয়সা      ● গতির বাজারে পিছিয়ে প্রগতি      ● চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের ওপর হামলা, হ্যান্ডকাপ পরা আ.লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ      ● পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ২২      ● হামলা হলে কঠোর জবাব দেবে সৌদি: যুবরাজ সালমান      ● বিষখালী নদীতে নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর জেলের লাশ উদ্ধার      ● চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ ককটেল বিস্ফোরণ      ● ফেনীর পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান      ● বিকল্প রুটে স্বাভাবিক হলো উপসাগরীয় তেল রপ্তানি      ● ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পেলেন ৬১১ জন      ● এলাকার উন্নয়নে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছি      ● জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার বার্তা: মাহদী আমিন      
গ্রিড ব্যবহারে সর্বোচ্চ মাশুল ১ টাকা ৯০৯৭ পয়সা
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ পিএম

বেসরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিক বা মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা ছিল বিদ্যুতের মূল্য ও গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ। এ বিষয়ে গণশুনানি শেষে মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রির দাম এবং জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিইআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী অক্টোবর থেকে নতুন এই হার কার্যকর হবে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট সর্বনিম্ন ৬ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭ টাকা ১১ পয়সা দরে কিনবে বিতরণ সংস্থাগুলো।

বিইআরসি জানিয়েছে, সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র থেকে একক ক্রেতা হিসেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুৎ কিনতে পারবে। ৩৩ কিলোভোল্ট (কেভি) সংযোগে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ টাকা ৯৮ পয়সা। আর ১৩২ কেভি সংযোগে প্রতি ইউনিটের দাম হবে ৭ টাকা ১১ পয়সা।

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছে বিক্রির সুযোগও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদক ও ক্রেতা নিজেদের মধ্যে দাম নির্ধারণ করতে পারবেন। তবে সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহার করলে নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করতে হবে।

সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা ব্যবহারের এই মাশুলকে ‘ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ’ বলা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহকের সংযোগের ধরন অনুযায়ী এ মাশুল প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২২ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৯০৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন ধরনের সংযোগের জন্য আলাদা মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র সরাসরি গ্রিডে যুক্ত এবং গ্রাহক সরকারি বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে যুক্ত থাকলে ২৩০ কেভিতে প্রতি ইউনিট মোট মাশুল হবে ১ দশমিক ৫৯৮৯ টাকা। ১৩২ কেভিতে তা ১ দশমিক ৬০২৫ টাকা এবং ৩৩ কেভিতে ১ দশমিক ৬০৯৭ টাকা।

এই মাশুলের মধ্যে সঞ্চালন, বিতরণ, বিদ্যুতের হিসাব ব্যবস্থাপনা এবং বিল নিষ্পত্তির খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সঞ্চালন মাশুল ২৩০ কেভিতে প্রতি ইউনিট ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ গ্রহণের প্রান্তে বিতরণ মাশুল প্রতি ইউনিট ১ টাকা ১৭ পয়সা এবং হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির জন্য আরও ৫ পয়সা দিতে হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক সঞ্চালন ব্যবস্থার দুই প্রান্তে আলাদা বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রান্তে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা বিতরণ মাশুল প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে ২৩০ কেভিতে মোট মাশুল দাঁড়াবে ১ দশমিক ৮৯৮৯ টাকা, ১৩২ কেভিতে ১ দশমিক ৯০২৫ টাকা এবং ৩৩ কেভিতে ১ দশমিক ৯০৯৭ টাকা।

তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকলে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা মাশুল দিতে হবে না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রান্তে বিতরণ লসও আরোপ করা হবে না। এ হিসাবের ক্ষেত্রে সব পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন একই বিতরণ সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক একই বিতরণ সংস্থার আওতায় সরাসরি যুক্ত থাকলে মোট মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২২ পয়সা।

বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে অপচয় এবং সঞ্চালন ও বিতরণ লসের হিসাবও প্রযোজ্য হবে। সঞ্চালন লসের ক্ষেত্রে পাওয়ার গ্রিডের প্রতি মাসে প্রকাশিত প্রকৃত গড় হার ব্যবহার করা হবে। আর বিতরণ লসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোল্টেজে সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরের অর্জিত হার কার্যকর হবে।

বিতরণ সংস্থাভেদেও পৃথক মাশুল নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। পিডিবির ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট মাশুল ৭০ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ক্ষেত্রে ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ৮৫ পয়সা এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ৯৯ পয়সা। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ক্ষেত্রে এ হার ৮৭ পয়সা এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির ক্ষেত্রে ১ টাকা ৪ পয়সা।

বাণিজ্যিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ও সরবরাহ করা বিদ্যুতের হিসাব ব্যবস্থাপনা এবং বিল নিষ্পত্তির সমন্বিত দায়িত্ব পালন করবে পিডিবি। নির্ধারিত হারে কেন্দ্রগুলোকে বিল করবে সংস্থাটি। পরে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাকে তাদের প্রযোজ্য মাশুল অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হবে।

২০২৫ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালা করা হয়। এই ব্যবস্থায় এক এলাকায় স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহার করে অন্য এলাকার বড় গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক কেন্দ্রের ঘোষিত মাসিক উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রির সুযোগ রয়েছে। অবশিষ্ট বিদ্যুৎ বড় গ্রাহকদের কাছে সরাসরি বিক্রি করতে পারবেন উদ্যোক্তারা।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট মার্চেন্ট পাওয়ারের বিদ্যুতের দাম ও গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি। কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা সৌরবিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল।

গণশুনানিতে বড় শিল্পগ্রাহক হারিয়ে রাজস্ব কমার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল পিডিবি ও কয়েকটি বিতরণ কোম্পানি। তাদের উদ্বেগ ছিল, শিল্পগ্রাহকরা দিনের বেলায় মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুৎ কিনে রাতে আবার বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিতে পারেন।

অন্যদিকে, উদ্যোক্তাদের বক্তব্য ছিল, সঞ্চালন, বিতরণ ও অন্যান্য মাশুল বেশি হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।








স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি



আরও সংবাদ   বিষয়:  সৌরবিদ্যুৎ   সৌরবিদ্যুৎ দাম   বিইআরসি   মার্চেন্ট পাওয়ার   বিদ্যুৎ   নবায়নযোগ্য জ্বালানি   বিদ্যুৎ মাশুল   পিডিবি   ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ   বাংলাদেশ  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close