প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ AM

সৌদি আরবের নিরাপত্তার ওপর কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাদশাহ সালমানের পক্ষে বার্ষিক ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা যে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা স্পষ্ট করেছে। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা রক্ষায় বিন্দুমাত্র আপস না করেই আমরা উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টায় সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করছি। নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আমরা দ্বিধা করব না।’
সৌদি যুবরাজ জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারে উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে সৌদি আরব। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখছে সৌদি আরব। পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক পানিপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত এবং জলপথকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগের কথা জানান।
গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন সৌদি যুবরাজ। ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি সৌদি আরবের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ছাড়া ইয়েমেনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও দেশটির সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। সুদানের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা এবং দেশটির বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার প্রতিও সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা বলেন।
ভাষণে সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অগ্রগতিও তুলে ধরেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি জানান, তেলবহির্ভূত রপ্তানি ২০১৬ সালের তুলনায় ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান ৫১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি