প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩১ পিএম

উত্তরাঞ্চলের বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাথমিক প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিরূপণে প্রায় ২৩ কোটি টাকার একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য হিসেবে উত্তরাঞ্চলের বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং অঞ্চলটির অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার এবং ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার বিষয় রয়েছে।
এ ছাড়া ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ এবং বাঁধের ওপর পাকা সড়ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। নদীশাসনের মাধ্যমে প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন জমি উদ্ধারের পাশাপাশি এসব জমি কৃষি ও শিল্পে ব্যবহারের সুযোগ তৈরির কথাও বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বাসসকে বলেন, সরকারের এই সমন্বিত পরিকল্পনা নদী রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সেচব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তাঁর মতে, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপর নির্মিত সড়ক উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে।
নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে তা কার্যকর হতে পারে। বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমানও উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন উপাদানের কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক মূল্যায়ন করা হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। এছাড়া জুনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি