প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৪ পিএম

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের চতুর্থ দফার অনানুষ্ঠানিক গোপন ভোটে তিনি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের এই ভোটে গ্রিনস্প্যানের পক্ষে ১০টি ‘সমর্থন’ ভোট পড়ে। তিনটি ভোটে তাকে ‘নিরুৎসাহিত’ করা হয় এবং দুটি ভোটে কোনো মতামত জানানো হয়নি। চার দফার ভোটের মধ্যে তিনবারই শীর্ষে ছিলেন গ্রিনস্প্যান। তিনি বর্তমানে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনসিটিএডির মহাসচিব।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন গায়ানার জাতিসংঘবিষয়ক রাষ্ট্রদূত ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট। চতুর্থ দফার ভোটে তিনি আটটি ‘সমর্থন’ ভোট পেয়েছেন। একই সংখ্যক সমর্থন পেয়েছেন আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রসি। তিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক।
এ ছাড়া প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল, ইকুয়েডরের ইভোনে এ-বাকি, ইকুয়েডরের মারিয়া ফের্নান্দা এস্পিনোসা এবং উগান্ডার ওলারা ওতুননু। সাবেক চিলির প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বর্তমানে সাতজন প্রার্থী রয়েছেন।
তবে অনানুষ্ঠানিক ভোটে এগিয়ে থাকলেই মহাসচিব হওয়া নিশ্চিত নয়। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে নয়টি ভোট পেতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া—নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো দেশ ভেটো দিলে প্রক্রিয়াটি থেমে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করবে এবং এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার অনুমোদন হবে।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এরপর নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেবেন। জাতিসংঘের শীর্ষ পদটি ঐতিহ্যগতভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ঘুরিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে। সেই হিসাবে এবার লাতিন আমেরিকার কোনো প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের এই অনানুষ্ঠানিক ভোটে প্রতিটি প্রার্থীর বিষয়ে সদস্যরা গোপনে ‘সমর্থন’, ‘নিরুৎসাহিত’ অথবা ‘কোনো মতামত নেই’—এই তিন ধরনের মতামত দেন। মঙ্গলবারের ভোটে অবশ্য স্থায়ী সদস্যদের ব্যালটে আলাদা রঙ ব্যবহার করা হয়নি। নিরাপত্তা পরিষদের পর্যায়ক্রমিক সভাপতি ও জাতিসংঘে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বনাফোঁ ভোট শেষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পরবর্তী দফার ভোটের তারিখ জানাননি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি