প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫১ পিএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের দাবি, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিষয় জড়িত নয়; বরং ফ্লাইটের রুট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয় থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির আবেদন দেশটির প্রচলিত নিয়ম, বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক প্রটোকল ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হয়।
হাইকমিশন আরও জানায়, রূপপুরের জ্বালানি পরিবহন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়টি মূলত ফ্লাইটের রুট নির্ধারণ ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ একাধিক পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিষয়টিকে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং এমন কোনো প্রতিবেদন বা বক্তব্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এর আগে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, রূপপুরের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী কার্গো বিমানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় আকাশসীমার অনুমতি না পাওয়ায় সেটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম পরে জানায়, অক্টোবর থেকে আবার ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সরবরাহ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রূপপুর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি পরিবহনের রুটে একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে হয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন আগে থেকেই নিতে হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে চালান আসা শুরু হতে পারে।
রোসাটম জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি কয়েকটি ফ্লাইটে করে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আনা হবে। চুক্তির শর্ত ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী সরবরাহ কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি