মঙ্গলবার ● ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● ডিজিটাল নজরদারি বাড়িয়ে ভ্যাট আদায়ে জোর      ● এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা      ● ১ অক্টোবর প্রকাশ হবে ২০২৭ বিশ্বকাপের সূচি      ● চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে কালজয়ী গানের মূর্ছনা      ● বগুড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ভিপি শাহীন আটক      ● অপরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাসে বাড়ছে এডিসের প্রজননঝুঁকি      ● জেলা শহরে চালু হচ্ছে স্কুলবাস      ● আদাবরে বাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১০      ● রাশিয়ায় ৮ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা: জেলেনস্কি      ● আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতায় গুরুত্ব      ● নিরাপত্তা পরীক্ষায় মান পূরণ করতে পারেনি জিপিটি-৬.১ অ্যাস্ট্রা      ● ইসিবি চত্বরে আবাসন প্রকল্পে হামলা-লুটপাট      
ডিজিটাল নজরদারি বাড়িয়ে ভ্যাট আদায়ে জোর
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

ভ্যাট আদায় বাড়াতে নতুন করে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনা, বড় ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা, ডিজিটাল ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানো এবং ভ্যাট ফাঁকি ধরতে মাঠ পর্যায়ে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত ভ্যাট আদায়ের পথ সহজ করতে চায় এনবিআর।

এনবিআরের হিসাবে মোট ভ্যাট আদায়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে ১১টি খাত থেকে। এ কারণে এসব খাতের প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন রিটার্নের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সিগারেট, মোবাইল ফোন, ওষুধ, পানীয়, সিমেন্ট, এমএস পণ্য, টাইলস এবং রং ও বার্নিশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। সেবাখাতের মধ্যে রয়েছে বীমা, ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল আর্থিক সেবা।

এনবিআর জানিয়েছে, বর্তমানে মোট ভ্যাট রিটার্নের প্রায় ৬০ শতাংশ অনলাইনে জমা হচ্ছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ধাপে ধাপে অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব খাত থেকে বড় অঙ্কের ভ্যাট আসে, সেসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্য অনলাইনে পাওয়া গেলে রাজস্ব কর্মকর্তাদের জন্য তথ্য যাচাই ও নজরদারি সহজ হবে।

শুধু বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি নয়, নতুন করদাতার সংখ্যাও বাড়ানোর চেষ্টা করছে এনবিআর। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে ২৭ হাজার ৪০১টি নতুন প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে।

তবে নতুন নিবন্ধনের পর এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করছে কি না এবং যথাযথ ভ্যাট পরিশোধ করছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়লেই রাজস্ব বাড়বে না। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত ব্যবসা ও লেনদেনের সঙ্গে তাদের দেওয়া ভ্যাটের হিসাব মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ জন্য নিবন্ধনের পর নিয়মিত রিটার্ন দাখিল ও ভ্যাট পরিশোধ নিশ্চিত করার ওপরও নজর দিচ্ছে এনবিআর।

ভ্যাট ফাঁকি ধরতে মাঠ পর্যায়েও অভিযান বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে গোপন বিক্রয়, পণ্যের ভুল শ্রেণিবিন্যাস এবং কম ভ্যাট দেখানোর মতো অনিয়ম শনাক্ত করা হচ্ছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাটের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

তবে ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে পুরনো বকেয়াও বড় বিষয় হয়ে রয়েছে। নতুন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হলেও পুরনো করদাতাদের কাছ থেকে নিয়মিত ভ্যাট আদায় এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া আদায় করা না গেলে মোট রাজস্বে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।

এদিকে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। জুলাই থেকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ফলে জুলাই ও আগস্ট মাসের লেনদেনের রিটার্ন দাখিল ও ভ্যাট পরিশোধের সময় সেপ্টেম্বর মাসে পড়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার বাস্তব অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করছে এনবিআর। এরই মধ্যে আবার মাসিক রিটার্ন ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ভ্যাট আদায়ের সাম্প্রতিক হিসাবেও কিছুটা কমতির চিত্র দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসে আদায় হয়েছিল ১১ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। আগস্টে আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা, যা গত বছরের আগস্টে ছিল ১১ হাজার ৮১ কোটি টাকা।

তবে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট আদায় শুরু হওয়ায় শুধু জুলাই ও আগস্টের হিসাব দিয়ে নতুন ব্যবস্থার প্রভাব বিচার করতে চাইছে না এনবিআর। এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট নীতি) মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু এবার ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট আদায় হচ্ছে, সেহেতু সেপ্টেম্বর শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে ভ্যাট আদায়ের যে তথ্য আসছে, তা পজিটিভ।’

এনবিআরের এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য এখন করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান করদাতাদের কাছ থেকে নিয়মিত ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করা। অনলাইন রিটার্ন, ডিজিটাল নজরদারি ও মাঠ পর্যায়ের অভিযান—এই তিন দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে বকেয়া ভ্যাট আদায় করতে পারলে রাজস্ব আহরণ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরে ভ্যাট থেকে ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনবিআর। এই লক্ষ্য পূরণে নতুন করদাতা যুক্ত করার পাশাপাশি বড় খাতগুলোর লেনদেনের ওপর নজরদারি, নিয়মিত রিটার্ন দাখিল এবং বকেয়া ভ্যাট আদায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ত্রৈমাসিক রিটার্ন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা এবং ডিজিটাল নজরদারির পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ আগামী মাসগুলোতে ভ্যাট আদায়ে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, ‘উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা মাত্র দুই মাসের মাথায় বাইরে থেকে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। এনবিআর যে উদ্যোগ নিয়েছে, নিশ্চয়ই এর পেছনে তাদের যৌক্তিকতা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে এর ফলাফল স্পষ্ট হবে এবং এনবিআরই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে ভ্যাটের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে আদায় করা ভ্যাট যাতে সঠিকভাবে ও সময়মতো সরকারি কোষাগারে জমা হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। অটোমেশন হলে এই দুই কাজই সহজ হবে। তাই এই মুহূর্তে পুরো ভ্যাট ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনাই জরুরি।’





স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি



আরও সংবাদ   বিষয়:  ভ্যাট আদায়   এনবিআর   জাতীয় রাজস্ব বোর্ড   ভ্যাট রিটার্ন   অনলাইন রিটার্ন   ডিজিটাল নজরদারি   করদাতা   ভ্যাট ফাঁকি   রাজস্ব আদায়   বকেয়া ভ্যাট   অটোমেশন  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close