
চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অভিজ্ঞতা এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের মধ্যে দেশটির আধুনিকায়ন সম্পর্কে ধারণা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পর্যটন ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগও চীনকে বোঝার ক্ষেত্রে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
‘প্রতিবেশী দেশগুলো কীভাবে চীনের আধুনিকীকরণকে দেখে’ শীর্ষক এক থিংক-ট্যাঙ্ক জরিপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজে আয়োজিত ‘চায়না কি-ওয়ার্ডস’ বিষয়ক জ্ঞান বিনিময় অধিবেশনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। একাডেমি অব কনটেম্পোরারি চায়না অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড স্টাডিজ (এসিসিডব্লিউএস) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সহায়তায় এসিসিডব্লিউএস এবং সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ, এসআইআইএস-ডিইউ যৌথভাবে এ অধিবেশনের আয়োজন করে।
এসিসিডব্লিউএস আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বৈশ্বিক ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি এবং আন্তর্জাতিক জনমত নিয়ে গবেষণায় বিশেষায়িত একটি জাতীয় পর্যায়ের থিংক-ট্যাঙ্ক। চীনকে ঘিরে বৈশ্বিক ধারণা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশটির ভাবমূর্তি নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা করে আসছে।
এসিসিডব্লিউএসের একটি গবেষণা দল জরিপটি পরিচালনা ও প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করে। এতে এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের মধ্যে চীনের আধুনিকীকরণ নিয়ে বিদ্যমান ধারণা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। চীনের উন্নয়নের অভিজ্ঞতা, আধুনিকায়নের ধারণা এবং বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রমকে এসব দেশের মানুষ কীভাবে দেখছে, তা ছিল জরিপের অন্যতম মূল বিষয়।
জরিপে তাজিকিস্তান, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ এশিয়ার ১০টি দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে চীনের জাতীয় ভাবমূর্তি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনের ফলাফলও যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জনগণের মধ্যে চীনের আধুনিকীকরণ সম্পর্কে ধারণার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চীনের উন্নয়নের দৃশ্যমান সাফল্য দেশটির আধুনিকায়নকে বোঝার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, অবকাঠামো নির্মাণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় চীনের অগ্রগতি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
জরিপে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন ফলাফল ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষ চীনের আধুনিকায়নকে ক্রমশ বুঝতে পারছে। অনেক দেশে চীনা পণ্য ও প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি অবকাঠামো, শিল্প ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধিতে চীনের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প দেশটির উন্নয়ন অভিজ্ঞতাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে চীন ও বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও কিছু অভিন্নতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিজ নিজ জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিকায়নের পথ খোঁজা, জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং উন্মুক্ততা ও সহযোগিতার মাধ্যমে যৌথ উন্নয়ন অর্জনের ক্ষেত্রে দুই দেশের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে মিল রয়েছে।
এ কারণে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও বাড়াতে যুব বিনিময়, একাডেমিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে তরুণদের ভূমিকাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, চীন সম্পর্কে ধারণা তৈরির ক্ষেত্রে তরুণরা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষা, পর্যটন ও অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম চীনের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কে আগের তুলনায় বৈচিত্র্যময় ধারণা অর্জন করছে।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, জনগণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক যোগাযোগ যত বাড়ছে, চীনের আধুনিকায়ন সম্পর্কেও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষের ধারণা তত বেশি বাস্তব অভিজ্ঞতানির্ভর হয়ে উঠছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি