প্রকাশ: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফলে চাঁদাবাজির মামলায় দুই সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি এনামুল হক এনা এবং দৈনিক জাগো জনতার উপজেলা প্রতিনিধি মো. রিয়াজ হোসেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন ওই দুই সাংবাদিক। শুনানি শেষে বিচারক মো. শহিদুল্লাহ তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ২৫ জুলাই বিকেলে এনামুল হক এনা, রিয়াজ হোসেনসহ স্থানীয় আরও দুই সাংবাদিক উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের একটি বাড়িতে যান। সেখানে আন্তঃধর্মীয় বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রতন মন্ডলের পরিবারের কাছে অভিযুক্তরা তিন লাখ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। বাকি টাকা পরে নেওয়ার কথা জানান তাঁরা।
পরে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও কয়েকজন সাংবাদিকের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী পরিবারকে ওই ২০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা এনামুল হক এনা ও মো. রিয়াজ হোসেনের নামে বাউফল থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার দাবি করে ইতোমধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তরা নিজেদের সাংবাদিক ও ডিবি পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে স্থানীয় এক দোকানির কাছ থেকে টাকা ধার করে ২০ হাজার টাকা দেন তাঁরা। পরদিন আরও টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।
তবে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের দাবি, তাঁরা শুধু আন্তঃধর্মীয় বিয়ের তথ্য সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগ মিথ্যা বলেও দাবি করেন তাঁরা।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হাইকোর্ট থেকে আসামিরা ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় রোববার তাঁরা পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, পুলিশের তদন্তে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ মিলেছে। আদালতের এ সিদ্ধান্তে মামলার বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ