প্রকাশ: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ পিএম আপডেট: ২৭.০৯.২০২৬ ৭:৫৯ PM

উদ্বোধনী নামফলকে নিজের নাম খোদাই করা দেখে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকার একটি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না করেই তিনি সেখান থেকে চলে যান।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজক সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বারের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে উদ্বোধনের ঠিক আগমুহূর্তে তিনি লক্ষ্য করেন, ভবনের দেয়ালে লাগানো নামফলকে উদ্বোধক হিসেবে তাঁর নাম খোদাই করে লেখা রয়েছে।
এটি দেখার পর তিনি চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ আয়োজকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, জনগণের টাকায় নির্মিত কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপনায় তিনি নিজের নাম ব্যবহারের এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির ঘোর বিরোধী। কোনো রাজনৈতিক নেতার আত্মপ্রচারের জন্য নামফলকে ব্যক্তির নাম লেখা বন্ধ হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এরপর তিনি উদ্বোধন না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
এই বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে জানা যায়, সাবেক স্বৈরাচারী বা প্রথাগত রাজনৈতিক আমলের মতো ব্যক্তিপূজা বা আত্মপ্রচারের সংস্কৃতি তিনি নতুন বাংলাদেশে দেখতে চান না। জনগণের টাকায় সরকারি উন্নয়ন হয়, তাই নামফলকে ব্যক্তিবিশেষের নাম না রেখে কেবল দেশের নাম বা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক তথ্য থাকা উচিত। ভবিষ্যতে তাঁর নির্বাচনী এলাকার কোনো উন্নয়নমূলক বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজের উদ্বোধনী ফলকে যেন তাঁর নাম ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়েও তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই এই ঘটনাকে দেশের প্রথাগত ‘চাটুকারিতা’ ও ‘ব্যক্তিপূজা’র রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি বড় চপেটাঘাত এবং ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে সমালোচকদের কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক চমক বা প্রচারণার কৌশল হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুতই নামফলকটি পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ