
সন্তান জন্মের পর বদলে যাওয়া শরীর নিয়ে গত তিন বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষের শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। কখনো তাঁকে ‘মোটা’, আবার কখনো নানা ধরনের মন্তব্য করে হেয় করা হয়েছে। এত দিন এসব মন্তব্যের প্রতিবাদ করে এলেও এবার ভিন্ন কৌশলে জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী। অপমানের জন্য ব্যবহৃত একটি শব্দই নিজের পোশাকে তুলে ধরেছেন তিনি।
‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এর দ্বিতীয় মৌসুমের প্রিমিয়ারে বেগুনি শাড়ির সঙ্গে ‘মোটি’ লেখা ব্লাউজ পরে হাজির হন স্বরা। হিন্দি ‘মোটি’ শব্দটির অর্থ মোটা। যে শব্দটি দিয়ে তাঁকে হেয় করা হয়েছে, সেটিকেই এবার নিজের করে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালক বীরেন্দর শেবাগের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বরা জানান, মেয়ের জন্মের পর তিন বছর ধরে অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে তাঁর শরীর নিয়ে নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে।
স্বরা বলেন, ‘আমার মেয়ের তিন বছর বয়স। আর তিন বছর ধরে এমন অনেক মানুষ—যাদের আমি একেবারেই চিনি না, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্য জায়গায় আমাকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন।’
তাঁকে উদ্দেশ করে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দের প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘মোটা হয়ে গিয়েছে...। আমি বললাম, আমি সবই হয়ে গেছি। এখন তোমাদের এই সব শব্দ গ্রহণ করে নিজের করে নিচ্ছি।’
‘মোটি’ শব্দটি কেন নিজের করে নিলেন
স্বরার এই পোশাকের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও যোগ রয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে ২০১৮ সালের একটি পুরোনো ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর আবারও শরীর নিয়ে কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ এক পোস্টে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী।
স্বরা বলেছিলেন, সন্তান জন্মের পর তাঁর শরীর বদলে যাওয়া এবং ইন্টারনেটে অপরিচিত মানুষের নির্ধারণ করে দেওয়া সময়ের মধ্যে ওজন কমাতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে যে রাগ ও ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে, তা তাঁর কাছে বিস্ময়কর।
তাঁর বক্তব্য ছিল, নারীর শরীরের উদ্দেশ্য শুধু যৌন আকর্ষণ বা সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে নিজেকে উপস্থাপন করা নয়।
সন্তান জন্মের পর তিনি ‘বাউন্স ব্যাক’ করার চেষ্টা করেননি বলেও জানিয়েছিলেন স্বরা। তাঁর মতে, মা হওয়ার পর জীবন আর আগের অবস্থায় ফিরে যায় না। একজন মানুষ চিরদিনের জন্য অভিভাবক হয়ে যান। তাই মাতৃত্বের পর শরীরের গড়ন বদলে গেলে সেটিকে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সামাজিক চাপ তৈরি করা নিষ্ঠুরতা।
মাতৃত্বের পর শরীর বদলানো স্বাভাবিক
‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এর অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও স্বরা জানান, ‘মোটি’ শব্দটি তিনি গর্বের সঙ্গে পরেছেন। তাঁর মতে, কাউকে শরীর নিয়ে লজ্জা দিতে যে শব্দ ব্যবহার করা হয়, সেটির ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার একটি উপায় হলো শব্দটিকে নিজের মতো করে গ্রহণ করা।
স্বরার ভাষ্য, গর্ভধারণ ও মাতৃত্বের পর একজন নারীর শরীরে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। সন্তান জন্মের পরপরই তাঁকে আগের মতো দেখতে হবে—এমন প্রত্যাশা অযৌক্তিক। নারীর মূল্য তাঁর ওজন কিংবা শরীরের গড়নের ওপর নির্ভর করে না।
সন্তান জন্মের পর নারীদের দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে যাওয়ার যে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয়, সেটিও বন্ধ হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। বরং মাতৃত্বের শারীরিক পরিবর্তনকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখা দরকার।
ঐশ্বরিয়া-ক্যাটরিনার প্রসঙ্গও টেনেছেন স্বরা
মাতৃত্বের পর নারীদের শরীর নিয়ে সামাজিক চাপের প্রসঙ্গে এর আগেও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের উদাহরণ টেনেছিলেন স্বরা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মেয়ে আরাধ্যার জন্মের পর ঐশ্বরিয়ার ওজন নিয়ে যেভাবে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছিল, তা তাঁর মনে আছে।
স্বরার মতে, সন্তান জন্মের পর ঐশ্বরিয়ার শরীরের পরিবর্তন নিয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছিল। অথচ সে সময় ঐশ্বরিয়া নিজের সন্তানকে নিয়ে জীবন উপভোগ করছিলেন। তাঁর এই অবস্থান স্বরাকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
সম্প্রতি একই ধরনের কটাক্ষের শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী ক্যাটরিনাও।
‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এ নতুন পরিচয়ে স্বরা
নতুন রিয়েলিটি শো ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এর দ্বিতীয় মৌসুমে প্রতিযোগী হিসেবে হাজির হয়েছেন স্বরা। ২৬ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে অনুষ্ঠানটির নতুন মৌসুম। সঞ্চালকের দায়িত্বে রয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার বীরেন্দর শেবাগ।
দ্বিতীয় মৌসুমে মোট ১৫ প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানের মূল কাঠামোয় প্রতিযোগীদের ‘রুলার’ ও ‘ওয়ার্কার’—এই দুই অবস্থানের মধ্যে থাকতে হয়। খেলা, সিদ্ধান্ত, জোট ও কৌশলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিযোগীদের অবস্থান বদলে যেতে পারে।
স্বরা ছাড়া এই মৌসুমে রয়েছেন করণ প্যাটেল, প্রিয়াঙ্কা চাহার চৌধুরী, গৌতম গুলাটি, তেজ প্রতাপ যাদব, শাহজাদ পুনাওয়ালা, সিয়েত তোমর, কায়রা আনু, মনীশ কাশ্যপ, কাজল রাঘবানি, নিহারিকা তিওয়ারি, সারা গুরপাল, রাজ গ্রোভার, ইরিনা রুদাকোভা ও অনীশ ভাগা।
শোটি প্রাইম ভিডিও ও এমএক্স প্লেয়ারে দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন নতুন পর্ব প্রকাশিত হচ্ছে।
স্বরা ভাস্কর ২০২৩ সালে ফাহাদ আহমদকে বিয়ে করেন। একই বছর তাঁদের কন্যা রাবিয়ার জন্ম হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ