প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪২ পিএম

রোমান্টিক সিনেমায় প্রায়ই দেখা যায়, হাজার মানুষের ভিড়ে হঠাৎ চোখাচোখি আর মুহূর্তেই প্রেম। বাস্তব জীবনেও এমন অনুভূতির অভিজ্ঞতার কথা অনেকে বলেন। বিজ্ঞানও স্বীকার করে, প্রথম দেখায় কারও প্রতি তীব্র আকর্ষণ বা ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তবে এটিকে সরাসরি দীর্ঘস্থায়ী প্রেমের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রথম দেখায় কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হলে এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে মস্তিষ্ক। এ সময় শরীরে অ্যাড্রেনালিন ও ডোপামিনের মতো রাসায়নিক উপাদানের কার্যক্রম বেড়ে যায়। ফলে হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, হালকা ঘাম হওয়া কিংবা লজ্জাবোধের মতো শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
কাউকে আকর্ষণীয় মনে হলে মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সেন্টারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ডোপামিনের সঙ্গে যুক্ত এই প্রক্রিয়া আনন্দ ও উত্তেজনার অনুভূতি তৈরি করে। ফলে সেই মানুষ বা মুহূর্তটি মস্তিষ্কে বিশেষভাবে মনে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
তবে মানুষ কেন এত দ্রুত কাউকে পছন্দ করে ফেলে? এর একটি কারণ হলো, মস্তিষ্ক খুব দ্রুত অন্য একজনের চেহারা, হাসি, চোখের অভিব্যক্তি ও শারীরিক ভাষা থেকে প্রাথমিক ধারণা তৈরি করে। সচেতনভাবে বিষয়টি না বুঝলেও অবচেতন মনে এই মূল্যায়ন চলতে থাকে।
শুধু বাহ্যিক আকর্ষণই নয়, হঠাৎ তৈরি হওয়া মানসিক সংযোগও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন কোনো অপরিচিত মানুষের সঙ্গে একই ঘটনায় হেসে ওঠা, চোখাচোখি হওয়া কিংবা কোনো মুহূর্তে নিজেদের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া—এসব ছোট ঘটনা থেকেও আকর্ষণ তৈরি হতে পারে।
তবে প্রথম দেখার তীব্র ভালো লাগা মানেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রথম আকর্ষণ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি নয়। বিশেষ করে ডেটিং অ্যাপের যুগে ছবি বা প্রথম দেখায় আকর্ষণ তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য একে অপরকে জানার সুযোগ দেওয়া জরুরি।
তাই প্রথম দেখার সেই বিশেষ অনুভূতি উপভোগ করা যেতে পারে, তবে সম্পর্ককে গভীর ও স্থায়ী করতে প্রয়োজন সময়, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং ধৈর্য। প্রথম দেখায় আকর্ষণ তৈরি হতে পারে মুহূর্তেই, কিন্তু গভীর সম্পর্ক তৈরি হতে সময় লাগে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি