
সিলেট নগরীর রায়নগর রাজবাড়ি এলাকায় একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালত পিবিআইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।
পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, বাবুলের আগের বক্তব্যের সত্যতা এবং ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তথ্য জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ‘নিকুঞ্জ ভিলা’ থেকে ব্যবসায়ী এম আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে পুলিশ মামলাটির তদন্ত করলেও পরে তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল দাবি করে, বাসাভাড়া পরিশোধের টাকা জোগাড় করতে চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাসায় প্রবেশ করেছিল সে। গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের কাছে ধরা পড়ে গেলে নিজের অপরাধ আড়াল করতে একে একে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পরে বাসা থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় বলে তার দাবি।
তবে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিকভাবে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে বাবুল ভিন্ন তথ্যও দিয়েছিল। একপর্যায়ে গৃহকর্মীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও দাবি করে সে। পরে তদন্তে ওই বক্তব্যের সত্যতা না পাওয়ায় চুরির উদ্দেশ্যকে হত্যাকাণ্ডের প্রধান মোটিভ হিসেবে বিবেচনা করে পুলিশ।
১৬৪ ধারায় জবানবন্দি
চার দিনের রিমান্ড শেষে গত ২০ আগস্ট বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তিনি বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
কোর্ট ইন্সপেক্টর মাহবুবুর রহমান জানিয়েছিলেন, বাবুল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে সেই জবানবন্দির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
পরিবারের অভিযোগে সম্পত্তি বিরোধের প্রসঙ্গ
নিহতদের মেয়ে সেলিনা সুলতানা মামলার এজাহারে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কথাও উল্লেখ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
ফলে মামলার শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বা মোটিভ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। নতুন করে দুই দিনের রিমান্ডে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এসব বিষয় আরও পরিষ্কার করার চেষ্টা করবে পিবিআই।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ