প্রকাশ: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ পিএম

সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইন। হামলায় ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসায় দেশটির পার্লামেন্ট ও সরকারের পক্ষ থেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
ইরাকি পার্লামেন্টের স্পিকার হেইবাত আল-হালবুসি সৌদি আরবের ওপর ইরাকের মাটি ব্যবহার করে হামলার ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইরাকের রাষ্ট্রীয় নীতি, জাতীয় স্বার্থ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কের পরিপন্থী।
সৌদির পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলার উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত ‘মায়সান অপারেশনাল কমান্ড’-এর বিরুদ্ধে সরকারি তদন্তে পার্লামেন্টের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলেও জানান তিনি। তদন্তে যারা জড়িত হিসেবে শনাক্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন ইরাকি স্পিকার।
অন্যদিকে, সৌদি তেল অবকাঠামোয় ড্রোন হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামলাটিকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়।
ইরাকের ভূখণ্ড যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার ঘাঁটি বা উৎক্ষেপণস্থল হিসেবে ব্যবহার করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কুয়েত। এর আগে একই ধরনের নিন্দা জানিয়েছিল বাহরাইনও।
এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পাইপলাইনে হামলার জন্য ইরান দায়ী কি না, এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জবাবে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত তারাই দায়ী।’
হুথিদের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর আগে তারা বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেয়। তার দাবি, হুথিরা মার্কিন হস্তক্ষেপ চায় না এবং অধিকাংশ জাহাজকে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে। তবে একটি দেশের সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সেটির সমাধান করবে বলে জানান তিনি।
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিজের ‘ভালো বন্ধু’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়ে যাবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ