
সারাদেশের মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন ও ২০২২ সালের সড়ক পরিবহন বিধিমালা অনুসরণ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদন পাওয়া বাসগুলোই কেবল সড়কে চলাচল করতে পারবে।
অনুমোদনহীন কোনো বাস সড়কে চলাচল করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে বলেও জানিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-মাওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া চলবে না
আদালতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪০ ধারায় যানবাহনের কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন করা হলে তা আইনের ৮৪ ধারায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি আইনের ২৮ ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বৈধ রুট পারমিট ছাড়া কোনো যানবাহন সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
শুনানি শেষে আদালতের আদেশের বিষয়ে আইনজীবী রাফিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বিআরটিএ যেসব বাসকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, কেবল সেসব বাসই সড়কে চলতে পারবে। স্লিপার বাস চলাচলের জন্য আলাদা কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি এবং হাইকোর্টও স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি দেননি।
ফলে বিআরটিএর অনুমোদন ও বৈধ রুট পারমিট ছাড়া মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর সুযোগ থাকছে না। এসব বাসকে সড়ক পরিবহন আইন এবং নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য মেনেই চলাচল করতে হবে।
স্লিপার বাসের অনুমোদন আছে কি না, জানতে চেয়েছিল আদালত
রিটকারী আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে বিআরটিএর কাছে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট।
জবাবে বিআরটিএ আদালতকে জানিয়েছে, স্লিপার বাস চলাচলের জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচল বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন হুজ্জাতুল ইসলাম খান।
মালিক সমিতির পাল্টা আবেদন
রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন করে। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অন্য কোনো কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের চলমান স্লিপার বাস ডাম্পিং, জব্দ কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
তবে বুধবারের আদেশে মহাসড়কে অনুমোদনহীন স্লিপার বাস চলাচলের সুযোগ না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেল।
মালিক সমিতির দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে ৮৯টি পরিবহন কোম্পানির অধীনে প্রায় এক হাজার স্লিপার এসি বাস পরিচালিত হচ্ছে। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ মানুষের জীবিকা জড়িত।
হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে স্লিপার বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিআরটিএর অনুমোদন, রুট পারমিট এবং নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও বাড়তে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি