
দুই বাংলাদেশি ভাইয়ের প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিয়োগ স্টার্টআপ AgenticHire বিভিন্ন অ্যাক্সিলারেটর প্রোগ্রাম, প্রতিযোগিতা, অনুদান ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অর্থ সংগ্রহের জন্য এখন পর্যন্ত কোম্পানির কোনো ইক্যুইটি ছাড়তে হয়নি।
স্টার্টআপটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) সাবিক বিন সুলতান ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার ভাই শাফি বিন সুলতান সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (COO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
AgenticHire একটি অনলাইনভিত্তিক বৈশ্বিক কোম্পানি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (CTO) হাওয়াং উ সিঙ্গাপুরের রিভার ভ্যালি হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিন সহপ্রতিষ্ঠাতার মধ্যে দুজন বাংলাদেশি এবং একজন সিঙ্গাপুরের। এছাড়া প্রতিষ্ঠাতা দলের অন্য সদস্যরা কাজ করছেন কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে।
AI কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছে
AgenticHire-এর মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রথমে নির্দিষ্ট পদের জন্য একটি মূল্যায়ন তৈরি করতে পারে। এরপর প্রার্থীদের একটি লিংক দেওয়া হয়। প্রার্থীরা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে AI-ভিত্তিক সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করতে পারেন।
সাক্ষাৎকার শেষে প্ল্যাটফর্মটি প্রার্থীর দক্ষতা ও দুর্বলতা তুলে ধরে একটি কাঠামোবদ্ধ রিপোর্ট তৈরি করে। সেখানে প্রার্থীর সামগ্রিক মূল্যায়ন ও সুপারিশও দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত থাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতেই।
বর্তমানে AgenticHire স্তরভিত্তিক সাবস্ক্রিপশন মডেলে পরিচালিত হচ্ছে। বিনা মূল্যের প্ল্যানে পাঁচটি সাক্ষাৎকারের সুযোগ রয়েছে। স্টার্টার প্ল্যানে মাসে ১০০ ডলারে ২০০টি সাক্ষাৎকারসহ সব ফিচার ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া হয়। বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য রয়েছে কাস্টম এন্টারপ্রাইজ প্ল্যান।
ইক্যুইটি না ছেড়েই তহবিল সংগ্রহ
AgenticHire-এর তহবিল সংগ্রহের ধরনটি প্রচলিত বিনিয়োগ রাউন্ডের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিনিয়োগ রাউন্ড পরিচালনা করেনি এবং কোনো বিনিয়োগকারীও কোম্পানির ইক্যুইটি গ্রহণ করেননি।
সাবিক বিন সুলতানের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাক্সিলারেটর প্রোগ্রামের স্টাইপেন্ড ও নন-ডাইলুটিভ মূলধনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যাংকিং অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই অর্থ এসেছে। এর মধ্যে East Ventures-এর My First $1000-এর মতো কর্মসূচিও রয়েছে। Prime Bank, Bank Asia, Guardian Life Insurance, Sportify, Wavesparks এবং Singapore National Youth Council-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহায়তাও এই তহবিল সংগ্রহে ভূমিকা রেখেছে।
সমস্যার সমাধান থেকেই যাত্রা
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে AgenticHire-এর যাত্রা শুরু হয়। সিঙ্গাপুরে একটি ফাউন্ডার-কেন্দ্রিক অ্যাক্সিলারেটর প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সময় দুই ভাই এই ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন।
সাবিক জানান, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোর একটি সাধারণ সমস্যা তারা লক্ষ্য করেছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানে অনেক সময় আলাদা HR বা নিয়োগ টিম থাকে না। ফলে প্রতিষ্ঠাতা কিংবা সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদেরই সম্ভাব্য কর্মীদের প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নিতে হয়।
তাদের মতে, একজন উপযুক্ত প্রার্থীকে টেকনিক্যাল ইন্টারভিউ পর্যন্ত নিতে অনেক সময় প্রতিষ্ঠাতাদের ২০ থেকে ৩০টি প্রাথমিক স্ক্রিনিং কল করতে হয়। এই সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার চাপ কমাতেই AI-কে প্রাথমিক টেকনিক্যাল স্ক্রিনিংয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয় তারা।
প্রথমে বিভিন্ন অ্যাক্সিলারেটর প্রোগ্রাম ও নিজেদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্যান্য স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাটি যাচাই করা হয়। এরপর একটি ন্যূনতম কার্যকর পণ্য (MVP) তৈরি করে অ্যাক্সিলারেটরের মেন্টরশিপ পর্যায়ে সেটিকে আরও উন্নত করা হয়।
সামনে বৈশ্বিক বাজারে আরও বিস্তারের পরিকল্পনা
সংগৃহীত অর্থের বড় অংশ পণ্য উন্নয়ন, দলের কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক অ্যাক্সিলারেটর প্রোগ্রাম ও সম্মেলনে অংশগ্রহণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিকভাবে পণ্যটি চালুর জন্যও অর্থের একটি অংশ রাখা হয়েছে।
বর্তমানে AgenticHire-এর লক্ষ্য প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোর মধ্যে গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানো এবং ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে পণ্যটির উন্নয়ন করা। নতুন বাজারে প্রবেশ, দল সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতে আরও তহবিল সংগ্রহের বিষয়েও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠাতা দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে কাজাখস্তানের দানিয়া তক্সানোভা মার্কেটিং বিভাগের প্রধান, থাইল্যান্ডের আপিউইট পাসুওয়াট আউটরিচ প্রধান, কম্বোডিয়ার মোকা সোখাহ অপারেশনস অ্যাসোসিয়েট এবং মালয়েশিয়ার জেসি চু প্রোডাক্ট অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি