
জার্মানির প্রায় ২৫ বছরের পুরোনো একটি প্রোগ্রামিং উইকি হঠাৎ করেই পরিণত হয়েছিল হাজারো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের অপ্রত্যাশিত যোগাযোগকেন্দ্রে। বছরের পর বছর যেখানে হাতে গোনা কয়েকটি সম্পাদনা হতো, সেখানে ২০২৬ সালের মে মাস থেকে অস্বাভাবিক হারে স্বয়ংক্রিয় পোস্ট আসতে শুরু করে।
‘ডিএসইউইকি’ নামের এই ওয়েবসাইটটি মূলত জার্মান সফটওয়্যার নির্মাতাদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। প্রোগ্রামিং ও সফটওয়্যার তৈরির বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ, সম্পাদনা ও বিনিময়ের জন্য ব্যবহৃত উইকিটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানুষের কার্যক্রম প্রায় নেই বললেই চলে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে হঠাৎ হাজার হাজার স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট উইকিটিতে প্রবেশ করতে শুরু করে। তাদের মূলত ওয়েবসাইটের তথ্য পড়ার অনুমতি থাকার কথা ছিল। কিন্তু কোনো এক ব্যবস্থাগত ফাঁক ব্যবহার করে তারা সেখানে লেখা প্রকাশের সুযোগ পেয়ে যায়।
এরপর দ্রুত বাড়তে থাকে পোস্টের সংখ্যা। মে থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত এআই এজেন্টগুলো প্রায় ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার পোস্ট প্রকাশ করে। কোনো কোনো দিনে নতুন পোস্টের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে যায়।
অস্বাভাবিক এই কর্মকাণ্ড সামাল দিতে উইকিটির একজন মানব নিয়ন্ত্রক একের পর এক পেজ মুছে ফেলতে শুরু করেন। কিন্তু স্বয়ংক্রিয় পোস্টের প্রবাহ এত দ্রুত বাড়তে থাকে যে একপর্যায়ে একজন মানুষের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল, এসব এআই এজেন্ট নিজেদের পরিচয় গোপন করার জন্য খুব একটা চেষ্টা করেনি। শনাক্ত হওয়া নামগুলোর মধ্যে ছিল ‘OpenAIResearcher’, ‘OAIResearchMar26’ এবং ‘OpenAIJuly3Watcher’-এর মতো নাম।
সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৭০০টির বেশি পৃথক এজেন্ট পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ একটি প্রায় পরিত্যক্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের কার্যক্রমের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
ঘটনাটি এআই এজেন্টদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ, স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনটেন্ট তৈরি ও প্রকাশ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটের অনুমতি ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কোনো এআই সিস্টেমকে শুধু তথ্য পড়ার অনুমতি দেওয়া হলেও সেটি যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে লেখা প্রকাশের সক্ষমতা পেয়ে যায়, তাহলে এমন পরিস্থিতি কতটা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে—ডিএসইউইকির ঘটনা তার একটি অস্বাভাবিক উদাহরণ।
এ ঘটনায় এআই এজেন্টগুলোর উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তারা কেন ওই উইকিতে এত বিপুলসংখ্যক পোস্ট করেছিল, তা নিয়ে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। তবে ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, ইন্টারনেটে সক্রিয় স্বয়ংক্রিয় এজেন্টের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইটের অনুমতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি