
ডিসি কমিকসের জনপ্রিয় চরিত্র নিয়ে টেলিভিশন সিরিজ নতুন কিছু নয়। তবে শুরু থেকেই ‘ল্যান্টার্নস’কে ঘিরে ছিল আলাদা কৌতূহল। মুক্তির পর দর্শকসংখ্যার পরিসংখ্যানও সেই আগ্রহেরই প্রতিফলন দিচ্ছে।
সিরিজটির তৃতীয় পর্ব মুক্তির প্রথম তিন দিনে বিশ্বজুড়ে দেখেছেন প্রায় ১ কোটি দর্শক। এখন পর্যন্ত এটিই সিরিজটির সর্বোচ্চ তিন দিনের দর্শকসংখ্যা। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই তৃতীয় পর্বের দর্শক প্রায় ৭০ লাখ। অন্যদিকে প্রথম পর্ব বিশ্বজুড়ে ২ কোটির বেশি দর্শক টেনেছে বলে জানা গেছে।
কিন্তু কী কারণে এত দ্রুত দর্শকদের মনোযোগ কেড়ে নিল ‘ল্যান্টার্নস’?
সুপারহিরো গল্পে রহস্যের ছোঁয়া
এর অন্যতম কারণ হতে পারে প্রচলিত সুপারহিরো গল্পের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা। সিরিজটিতে মহাকাশযুদ্ধ বা অতিমানবীয় শক্তির প্রদর্শনের পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে একটি রহস্যময় হত্যাকাণ্ড।
নতুন নিয়োগ পাওয়া গ্রিন ল্যান্টার্ন জন স্টুয়ার্ট এবং অভিজ্ঞ হ্যাল জর্ডান সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামেন। ফলে সিরিজটি একই সঙ্গে সুপারহিরো, ক্রাইম থ্রিলার ও রহস্যনির্ভর নাটকের আবহ তৈরি করেছে।
নায়কের পেছনের মানুষটিও গুরুত্বপূর্ণ
তৃতীয় পর্বে বিশেষভাবে উঠে এসেছে জন স্টুয়ার্টের অতীত। শৈশব, বাবা-মায়ের প্রত্যাশা, কঠোর প্রশিক্ষণ এবং নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই—সব মিলিয়ে চরিত্রটির মানবিক দিক সামনে এসেছে।
অ্যারন পিয়েরের অভিনয়ে জন স্টুয়ার্ট তাই শুধু ক্ষমতাধর এক সুপারহিরো নন; তিনি ভয়, চাপ ও পারিবারিক প্রত্যাশার সঙ্গে লড়াই করা একজন মানুষও। এই মানবিক উপস্থাপন চরিত্রটির সঙ্গে দর্শকের আবেগগত সম্পর্ক আরও গভীর করেছে।
অন্যদিকে কাইল চ্যান্ডলারের হ্যাল জর্ডান প্রতিনিধিত্ব করছেন অভিজ্ঞতার। নতুন প্রজন্মের জন স্টুয়ার্ট ও অভিজ্ঞ হ্যাল জর্ডানের সম্পর্কও গল্পে তৈরি করেছে আলাদা নাটকীয়তা।
তারকাদের রসায়নেও বাড়ছে আগ্রহ
সিরিজটির আরেকটি শক্তি এর অভিনয়শিল্পী। অ্যারন পিয়ের ও কাইল চ্যান্ডলারের পাশাপাশি রয়েছেন কেলি ম্যাকডোনাল্ড, গ্যারেট ডিলাহান্ট, পূর্ণা জগন্নাথন, জেসন রিটার ও উলরিখ থমসেন।
গল্পটি শুধু দুই প্রধান চরিত্রকে ঘিরে এগোয় না। পার্শ্বচরিত্রগুলোর অতীত, সম্পর্ক ও গোপন তথ্যও ধীরে ধীরে সামনে আসছে। ফলে প্রতিটি পর্বের পর দর্শকের মধ্যে পরের রহস্য জানার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
ডিসির নতুন অধ্যায় নিয়েও কৌতূহল
‘ল্যান্টার্নস’-এর জনপ্রিয়তার পেছনে আরেকটি বড় বিষয় হলো ডিসি স্টুডিওসের নতুন পরিকল্পনা। জেমস গান ও পিটার সাফরানের নেতৃত্বে ডিসি তাদের সিনেমা ও টেলিভিশন জগতকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে। সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে ‘ল্যান্টার্নস’কে।
এ কারণে সিরিজটি শুধু একটি কমিকস অভিযোজন নয়, ডিসির ভবিষ্যৎ গল্প বলার ধরন সম্পর্কেও দর্শকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হয়ে উঠেছে।
নির্মাতা দলেও রয়েছে বড় নাম। ক্রিস মুন্ডি, ড্যামন লিন্ডেলফ ও টম কিংয়ের সম্পৃক্ততা সিরিজটি মুক্তির আগেই দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছিল।
সব মিলিয়ে ‘ল্যান্টার্নস’ এখন এইচবিও ম্যাক্সের বড় সিরিজ উদ্বোধনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। পাশাপাশি এটি প্ল্যাটফর্মে ডিসি স্টুডিওসের সবচেয়ে বড় সিরিজ প্রিমিয়ার হিসেবেও আলোচনায় এসেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ